Image description

ফরিদপুরে গলায় টিউমার অপারেশনকে কেন্দ্র করে মিম (১৫) নামে এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। পরিবারের অভিযোগ, চিকিৎসকের অবহেলা ও ভুল চিকিৎসার কারণেই এই মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, সদরপুর উপজেলার চরবিষ্ণুপুর ইউনিয়নের চরচাঁদপুর গ্রামের বাসিন্দা শওকত মিয়ার মেয়ে মিম গলায় টিউমারের সমস্যায় গত ১৪ এপ্রিল রাতে শহরের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে অবস্থিত প্রভাতী (প্রাঃ) হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আতিকুল আহসানের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা শুরু হয়।

পরিবারের অভিযোগ, অপারেশনের সময় অসাবধানতাবশত মিমের গলার একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী কেটে যায়। এতে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে তার শারীরিক অবস্থা দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গুরুতর অবস্থায় তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও অবস্থার উন্নতি হয়নি। অবশেষে রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ঘটনাটি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, কারণ স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই ধরনের অপারেশন সাধারণত নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞদের করার কথা, সেখানে সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক কেন অপারেশন করলেন।

এদিকে অভিযুক্ত বেসরকারি হাসপাতালটির সেবার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, কারণ অতীতে অনিয়মের অভিযোগে সেটি ভ্রাম্যমাণ আদালত কর্তৃক সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং তাদের ওপর আপোষে আসার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। তারা সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে ডা. আতিকুল আহসানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. দিলরুবা জেবা বলেন, সার্জারি বিভাগের চিকিৎসক গলার অপারেশন করতে পারেন, যদি তিনি দক্ষ হন। তবে বর্তমানে এ ধরনের অপারেশন সাধারণত ইএনটি বিশেষজ্ঞরা করে থাকেন। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করা হবে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।