১৮ বছর ধরে ট্রাফিক সামলাচ্ছেন ষাটোর্ধ্ব হবিবুর, মাসিক বেতন মাত্র ৬ হাজার টাকা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ পৌরসভার ধানগড়া বাসস্ট্যান্ড গোল চত্বরে দিনের প্রায় সব সময়ই এখানে যানজট লেগে থাকে। বাস, অটোরিকশা, ট্রাক আর সাধারণ মানুষের ভিড়ে এই পয়েন্টটি যেন শহরের সবচেয়ে ব্যস্ত ও জটিল একটি স্থান।
এই জটের মাঝেও এক পরিচিত মুখ ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণকর্মী মো. হবিবুর রহমান। প্রায় ১৮ বছরেরও বেশি সময় ধরে তিনি এই একই স্থানে দাঁড়িয়ে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ করে চলেছেন। মাসিক মাত্র ৬ হাজার টাকা বেতনের চুক্তিতে তিনি এই কাজ করেন। সীমিত আয়ের মধ্যেও প্রতিদিন রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।
স্থানীয়রা জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই পয়েন্টে যানবাহনের চাপ বেড়ে গেলে পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় অচল হয়ে পড়ে। তবে হবিবুর রহমানের উপস্থিতি অনেক সময় পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
তিনি বলেন, “ধানগড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় আমি নিয়মিত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে কাজ করি। এখানে যদি আমিসহ আর একজন স্থায়ী ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ দেওয়া হয়, তাহলে যানজট অনেকটাই কমে যাবে।”
রায়গঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা ও শিক্ষার্থী মো. রুহুল আমিন বলেন, “হাবিবুর রহমান ভাই না থাকলে এই এলাকায় যানজট আরও ভয়াবহ হতো। তিনি একজন দরিদ্র ও সৎ মানুষ হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার কাজের তুলনায় যে বেতন দেওয়া হচ্ছে তা খুবই অপ্রতুল। আমরা চাই, তার মানবিক অবস্থা ও পরিশ্রম বিবেচনা করে দ্রুত বেতন বৃদ্ধি করা হোক।”
স্থানীয় রাজনীতিবিদ আশিকুর রহমান প্লাবন বলেন, “দীর্ঘদিন ধরে তিনি যে দায়িত্ব পালন করছেন, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। তবে তার যথাযথ মূল্যায়ন হওয়া উচিত এবং স্থায়ী ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জরুরি।”
রায়গঞ্জ পৌরসভার প্রধান সহকারী মো. আল মামুন বলেন, “পৌর বাসস্ট্যান্ডের ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের জন্য স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাবিবুর রহমানকে প্রথমে সপ্তাহে দুই দিন হাটবারে ২০০ টাকা করে দিনভিত্তিক মজুরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়। তিনি একজন দরিদ্র মানুষ এবং সহজ-সরল ও সৎভাবে জীবন পরিচালনা করেন। তার সেবায় পৌরসভার বাসিন্দারা সন্তোষ প্রকাশ করায় পরবর্তীতে তাকে পুরো মাসজুড়ে দায়িত্ব দিয়ে ৬ হাজার টাকা বেতন নির্ধারণ করা হয়। তিনি এই বয়সেও কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।”
ষাটোর্ধ এই বৃদ্ধ হাবিবুর রহমান রায়গঞ্জ পৌর এলাকারই বাসিন্দা। ব্যক্তিজীবনে তিনি এক কন্যা ও দুই পুত্র সন্তানের জনক। দীর্ঘ এই দায়িত্ব পালনের আয়েই তিনি মেয়ের বিয়ে সম্পন্ন করেছেন এবং দুই ছেলেরও বিয়ে দিয়েছেন।
স্থানীয়দের চোখে তিনি শুধু একজন ট্রাফিক কর্মী নন তিনি ধানগড়া বাসস্ট্যান্ডের নীরব অভিভাবক, যিনি প্রতিদিন দাঁড়িয়ে থেকে শহরের চলাচলকে সচল রাখার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।




Comments