বগুড়ায় অনিয়মে অভিযুক্ত ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত, রাজনৈতিক চাপে বিব্রত প্রশাসন
বগুড়ার আদমদীঘিতে অনিয়মের অভিযোগে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির এক ডিলারের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তবে লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্তের পর থেকেই অভিযুক্ত ডিলার পুনর্বহালের জন্য জোরালো রাজনৈতিক তদ্বির ও প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখে পড়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
অভিযুক্ত ডিলার মাসুদ রানা সান্তাহার পৌর শ্রমিকদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি। গত ১২ মার্চ উপজেলা খাদ্যবান্ধব কমিটির সর্বসম্মত সভায় তার ডিলারশিপ বাতিলের এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে প্রশাসনের সরেজমিন পরিদর্শনে তার বিরুদ্ধে উপকারভোগীদের চালের পরিবর্তে নগদ অর্থ প্রদান, গোপনে চাল বিক্রি এবং মজুদে ঘাটতিসহ নানা অনিয়মের সত্যতা পাওয়া যায়।
জানা যায়, উপজেলার ছাতিয়ানগ্রাম পূর্ব ঢাকা রোড এলাকায় প্রায় এক বছর আগে ডিলারশিপ নেন মাসুদ রানা। গত ৯ মার্চ তার গুদাম পরিদর্শন করে ২৫ জন ভোক্তার বরাদ্দকৃত ৭৫০ কেজি চালের ঘাটতি পায় প্রশাসন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এই চাল কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে। এর আগেও গত বছরের নভেম্বরে চালের পরিবর্তে নগদ টাকা দেওয়ার অভিযোগে তাকে সতর্ক করা হয়েছিল। নীতিমালা ভঙ্গের দায়ে উপজেলা কমিটি তার লাইসেন্স বাতিলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করে।
তবে রহস্যজনক বিষয় হলো, লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার আগেই গত সোমবার দুপুরে মাসুদ রানার তত্ত্বাবধানে পুনরায় চাল বিতরণ কার্যক্রম চলতে দেখা গেছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, অনিয়মের দায়ে অন্য ডিলারদের বিরুদ্ধে মামলা ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হলেও মাসুদ রানার ক্ষেত্রে কেন নমনীয়তা দেখানো হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর চাঁদাবাজির অভিযোগে মাসুদ রানাকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছিল। তবে সম্প্রতি এক সংসদ সদস্যের সুপারিশে সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে তাকে পুনরায় দলে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর থেকেই তিনি প্রশাসনের ওপর প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে মাসুদ রানা বলেন, "আমার ডিলারশিপ বাতিল হয়নি, বরং সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে।" প্রশাসনের ওপর চাপের বিষয়টি তিনি এড়িয়ে যান। এ বিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments