Image description

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে ৫ বছরের শিশু মাহতাব হোসেন হৃদয়ের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। ঘটনার এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। এদিকে, এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে নিহতের বাবা ও চাচাদের মধ্যে শুরু হয়েছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ, যা পুরো ঘটনাকে নতুন মোড় দিয়েছে। দিনের আলোতে এই হত্যাকাণ্ড ঘটলেও কোনো প্রত্যক্ষদর্শী না থাকা এবং মামলার সাক্ষীদের বয়ানে অসংগতি ঘটনায় ধোঁয়াশা আরও বাড়িয়েছে।

গত ১৬ এপ্রিল সকালে উপজেলার গালা ইউনিয়নের মারজান গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মাহতাব ওই গ্রামের ফারুক হোসেনের ছেলে। ফারুক হোসেনের অভিযোগ, পৈতৃক জমি ও টয়লেট নির্মাণ নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁর কোলে থাকা অবস্থাতেই তাঁর দুই ভাই হামিদ সরদার ও পেশকার সরদার ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাহতাবকে কুপিয়ে হত্যা করে। এই ঘটনায় তিনি দুই ভাইসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে শাহজাদপুর থানায় মামলা করেছেন।

তবে অভিযুক্ত চাচারা এই অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ফারুক হোসেন নিজেই তাঁর সন্তানকে হত্যা করে তাঁদের ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। মামলা হওয়ার পর হামিদ ও পেশকারের বাড়ি থেকে গরু-বাছুর ও আসবাবপত্র লুটপাট করা হয়েছে বলেও তাঁরা অভিযোগ করেন।

সরেজমিনে জানা যায়, হামিদ আলী বাড়ির আঙিনায় টয়লেট নির্মাণের জন্য ফারুক হোসেনের গোয়াল ঘর ঘেঁষে মাটি ফেলছিলেন। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে স্থানীয়ভাবে সালিশি বৈঠকের কথা ছিল। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, মামলার ১ নম্বর সাক্ষী সাদ্দাম, ২ নম্বর সাক্ষী রফিকুল ইসলাম ও ৩ নম্বর সাক্ষী আব্দুল মান্নানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা কেউই ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন না বলে প্রতিবেদকের কাছে দাবি করেছেন। এমনকি যারা সালিশ করার কথা ছিল, তারাও সেখানে ছিলেন না।

মামলার ১ নম্বর সাক্ষী সাদ্দাম জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন, পরে বিষয়টি জানতে পারেন। ৩ নম্বর সাক্ষী আব্দুল মান্নান জানান, তিনি ঘটনার সময় জামিরতা বাজারে ছিলেন এবং এ বিষয়ে কিছুই জানেন না। সাক্ষীদের এমন বক্তব্যে মামলার ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অভিযুক্ত ১ নম্বর আসামি হামিদ সরদার বলেন, “আমি পিলারের ঘর থেকে দলিল নিয়ে আসছিলাম। তখন ফারুক সালিশ থেকে উঠে বাড়ির ভেতর গিয়ে নিজের ছেলেকে কোপ দিয়ে আমাদের শুনায়ে বলে—‘এখন তোদের জমি খাওয়াবোনি’। সাদ্দাম ও দেল মাহমুদের ষড়যন্ত্রেই আমাদের ফাঁসানো হয়েছে।”

শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুর রহমান জানান, “মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। উভয় পক্ষের অভিযোগ ও সাক্ষ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আশা করছি খুব শীঘ্রই প্রকৃত রহস্য উন্মোচিত হবে।”

একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন করুণ মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসী এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রকৃত দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর