Image description

নওগাঁয় একই পরিবারের চার সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। জমিজমা সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আপন দুলাভাই ও দুই ভাগ্নে মিলে এই লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

এ ঘটনায় নিহতের আপন দুই ভাগ্নে সবুজ হোসেন ও শাহীন রানা এবং বড় বোনের স্বামী (দুলাভাই) শহিদুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে নওগাঁর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার তারিকুল ইসলাম।

পুলিশ জানায়, ২০ এপ্রিল রাতে হাবিবুর রহমান, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানের সঙ্গে একই টেবিলে বসে রাতের খাবার খায় দুই ভাগ্নে সবুজ ও শাহীন। খাবার শেষে তারা বাড়ি থেকে বের হয়ে পাশের একটি ফাঁকা মাঠে দুলাভাই শহিদুলসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে খুনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, রাত ১টার দিকে তারা পুনরায় বাড়িতে ঢুকে দরজা আটকে দেয়।

হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা দিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, ঘাতকরা প্রথমে শোবার ঘরে ঢুকে মামা হাবিবুর রহমানকে গলা কেটে হত্যা করে। এর কিছুক্ষণ পর মামি পপি আক্তার শৌচাগারে যাওয়ার জন্য ঘর থেকে বের হলে বাড়ির আঙিনাতেই তাকে ধরে গলা কেটে হত্যা করা হয়। সবশেষে ঘাতকরা তাদের দুই মামাতো ভাই-বোনকে ঘুমের ঘোরেই নৃশংসভাবে খুন করে পালিয়ে যায়।

হত্যার মূল কারণ সম্পর্কে পুলিশ জানায়, পৈতৃক ১৭ বিঘা জমির ভাগবাটোয়ারা নিয়ে হাবিবুরের সঙ্গে তার পাঁচ বোনের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। পাঁচ বোনের পর একমাত্র ছোট ভাই হওয়ায় হাবিবুর পৈতৃক সম্পত্তির সিংহভাগ পেয়েছিলেন, যা নিয়ে আদালতে একাধিক মামলাও চলছিল। মূলত হাবিবুরকে নির্বংশ করে পুরো সম্পত্তি দখল করতেই এই ‘কিলিং মিশন’ পরিচালনা করা হয়।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে নিহত চারজনের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে কান্নার রোল পড়ে যায়। বাড়ির সামনে তৈরি করা হয়েছে চারটি কবর। আজ বিকেলেই জানাজা শেষে তাদের দাফন করার কথা রয়েছে। অন্যদিকে এই নৃশংস ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক ভাগ্নে সবুজের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় জড়িত বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই