তীব্র তাপদাহে শুকিয়ে গেছে কাপ্তাই হ্রদ, বিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বনিম্ন
তীব্র দাবদাহ, কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর আশঙ্কাজনকভাবে নিচে নেমে যাওয়া এবং নজিরবিহীন বিদ্যুৎ সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে রাঙামাটির কাপ্তাই অঞ্চল। হ্রদের পানি শুকিয়ে যাওয়ায় জলবিদ্যুৎ উৎপাদন সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছে। অন্যদিকে মাছ ধরার ওপর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন হাজারো মৎস্যজীবী। পর্যটননির্ভর এই জনপদ এখন পর্যটকশূন্য, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর অস্বাভাবিকভাবে কমে যাওয়ায় দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন তলানিতে ঠেকেছে। বর্তমানে কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে মাত্র ১টি ইউনিট সচল রয়েছে, যা থেকে উৎপাদিত হচ্ছে মাত্র ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ—যা কেন্দ্রের মোট সক্ষমতার তুলনায় নগণ্য। ফলে রাঙামাটি ও পার্শ্ববর্তী জেলাগুলোতে দিন-রাত দফায় দফায় লোডশেডিং হচ্ছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিল্পকারখানা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম।
হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ নৌ-রুটগুলোতে নৌ-চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। এতে করে পাহাড়ি দুর্গম এলাকা থেকে কৃষিপণ্য পরিবহনে সময় ও ব্যয় দ্বিগুণ বেড়েছে। এরই মধ্যে মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন রক্ষায় আজ ২৫ এপ্রিল দিবাগত মধ্যরাত থেকে কাপ্তাই হ্রদে তিন মাসের জন্য মাছ ধরা, পরিবহন ও বিপণনে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে হ্রদনির্ভর জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা চরম অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন। জেলেরা জানান, সরকারি যে খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল।
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি কাপ্তাই এখন কার্যত পর্যটকশূন্য। তীব্র গরম, হ্রদে নাব্যতার সংকট এবং অব্যাহত বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পর্যটকরা কাপ্তাই বিমুখ হয়ে পড়েছেন। ফলে হ্রদকেন্দ্রিক বোট মালিক, হোটেল-রিসোর্ট ও স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই বহুমুখী সংকট থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত। বৃষ্টি না হলে হ্রদের পানির স্তর বাড়বে না, আর পানি না বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়া সম্ভব নয়। প্রকৃতি ও জীবিকার এই চরম সংকটে এখন আকাশপানে চেয়ে চাতক পাখির মতো বৃষ্টির অপেক্ষায় দিন গুনছে কাপ্তাইয়ের সাধারণ মানুষ।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments