Image description

রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি ডিগ্রি কলেজে নারী প্রদর্শককে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ওই ঘটনার জেরে কলেজের অধ্যক্ষ এবং অভিযুক্ত নারী প্রদর্শক হীরার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী। দাবি পূরণ না হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী নগরীর সাহেব বাজার এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে এই আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে দাওকান্দি তফসিরুল কুরআন মাহফিলের সভাপতি আব্দুস সামাদ অভিযোগ করেন, ঘটনার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে আংশিক ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করায় তাঁদের সামাজিক মান-সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে। 

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমাকে কি দেখে চাঁদাবাজ মনে হয়? ২৩ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে আমরা কলেজে প্রবেশ করেছিলাম, তখন সেখানে কোনো ১৪৪ ধারা জারি ছিল না। অথচ আমাদের ওপর মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে।”

এদিকে, ওই ঘটনার জেরে জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে দল থেকে বহিষ্কার করায় সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। 

নিজের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করে আকবর আলী বলেন, “সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজেও আমাকে দেখা যায়নি। তারপরও কেন আমাকে বহিষ্কার করা হলো, সেটি আমি কেন্দ্রের কাছে জানতে চাই।” 

তিনি অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে তাঁকে দল থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দাওকান্দি কলেজের বর্তমান পরিস্থিতি শিক্ষার পরিবেশকে চরমভাবে ব্যাহত করছে। তাঁরা দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে অধ্যক্ষ ও অভিযুক্ত প্রদর্শককে অপসারণ এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন। একইসঙ্গে তাঁরা গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি ঘটনার আংশিক তথ্য না দিয়ে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল দাওকান্দি কলেজে এক নারী প্রদর্শকের আচরণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে কলেজ কর্তৃপক্ষের হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার রেশ ধরে এলাকায় এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে।