হবিগঞ্জে সিলিকা বালুমহাল ঘিরে সিন্ডিকেট: ৬০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার
হবিগঞ্জের মাধবপুর, চুনারুঘাট ও বাহুবল উপজেলায় সিলিকা বালুমহালকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট। অভিযোগ উঠেছে, খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় প্রশাসনের একটি অংশ এবং কিছু প্রভাবশালী বালু ব্যবসায়ীর যোগসাজশে কৌশলে সিলিকা বালুমহালের ইজারা প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা হচ্ছে। ফলে বৈধ ইজারা ছাড়াই অবাধে দিন-রাত কোটি কোটি টাকার সিলিকা বালু উত্তোলন ও পাচার চলছে।
স্থানীয় অনেক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এখানে একটি সংঘবদ্ধ দুষ্টচক্র দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে। তারা পরিকল্পিতভাবে নিলাম প্রক্রিয়া বন্ধ রেখে অবৈধ উত্তোলনের সুযোগ সৃষ্টি করছে। ২০২৩ সালে সোনাই নদীতে ৬ কোটি টাকায় ইজারা হয়েছিল। অথচ বর্তমানে ইজারা না থাকায় সরকার বছরে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে বলে দাবি তাদের। তারা বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণেরও দাবি জানান।
এদিকে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে হাইকোর্ট। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)-এর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত অবৈধ উত্তোলনে জড়িতদের তালিকা প্রণয়ন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।
একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করে তিন মাসের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, হবিগঞ্জে মোট ২৩টি সিলিকা বালুমহাল থাকলেও ১৪৩১-১৪৩২ বাংলা সনে এসব মহাল ইজারা দেওয়া হয়নি। অথচ প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতিতে চুনারুঘাটের সুতাং নদী, দেউন্দি ও বৃন্দাবন চা-বাগানসহ বিভিন্ন সংরক্ষিত এলাকা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন চলছে।
নিষিদ্ধ ড্রেজার ব্যবহারের ফলে পাহাড়ি টিলা ধসে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। এতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সচেতন মহলের দাবি, দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ না নিলে পরিবেশবাদীরা মানববন্ধনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। তাদের ভাষায়, “প্রতি বছর অর্ধশত কোটি টাকা সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে রাজস্ব বিভাগেরও দায়িত্ব রয়েছে।”
হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. জি এম সরফরাজ বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে কিছু উদ্যোগ নিয়েছি। বালুমহাল ইজারা দেওয়ার বিষয়ে কাজ চলছে। বৈধ উত্তোলনকারীদের তালিকা প্রস্তুত করে প্রেরণ করা হয়েছে। আমি যোগদানের পর পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করছি।”
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে রাষ্ট্র যেমন বিপুল রাজস্ব হারাবে, তেমনি পরিবেশও পড়বে মারাত্মক হুমকির মুখে।
এখনই প্রয়োজন—সিন্ডিকেট ভেঙে স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও আইনসম্মত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা।




Comments