Image description

আবারও আলোচনায় লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে সরকারি এসি ও টিভি রহস্যজনক ভাবে গায়েবের ঘটনা ঘটেছে। 

এর আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  (ইউএনও) শামিমা আক্তার জাহান ফিলিং স্টেশনে এক যুবককে লাঞ্ছিত, দুদকের বিচারাধীন মামলা, লাঠি হাতে ফিলিং স্টেশনে তদারকি ও আপু সম্বোধনে ক্ষিপ্ত। সবমিলিয়ে আলোচনার শীর্ষে এ উপজেলা পরিষদ ও ইউএনও।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কালীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান রাকিবুজ্জামান আহমেদ সরকারি অর্থায়নে নিজের কার্যালয়টি সুসজ্জিত করেছিলেন। সেখানে স্যামসাং ব্র্যান্ডের দুটি এসি, একটি বড় টিভি ও দামি আসবাবপত্র ছিল। গত ৫ আগস্টের পর থেকে কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। সম্প্রতি সংসদ সদস্যদের বসার জন্য কক্ষ বরাদ্দ দেওয়ার সরকারি নির্দেশ এলে কক্ষটি খোলার সময় দেখা যায় এসি ও টিভি সেখানে নেই।

এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। 

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী দাবি করেছেন, দুটি এসির একটি ইউএনও’র বাসায় এবং অন্যটি তাঁর অফিসে লাগানো হয়েছে। তবে এটি বর্তমান ইউএনও যোগদানের আগে হয়েছে কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।

এর আগে গত বুধবার ইউএনও শামিমা আক্তার জাহান চাপারহাট এলাকার একটি ফিলিং স্টেশনে তেল নিতে আসা ‘নদী চন্দ্র  রায়’ নামে এক গ্যারেজ মেকানিককে লাঞ্ছিত করছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, কার্ডের ছবির সাথে চেহারার মিল না পাওয়ায় তিনি ওই যুবককে প্রকাশ্যে থাপ্পড় মারেন। এর আগের দিন তাকে হাতে লাঠি নিয়ে তুষভাণ্ডার এলাকায় তেল সরবরাহের তদারকি করতে দেখা যায়। একজন উচ্চপদস্থ প্রশাসনিক কর্মকর্তার এমন অপেশাদার আচরণে ক্ষুব্ধ স্থানীয় সাধারণ মানুষ।

এরও আগে ‘আপু’ সম্বোধন করায় ক্ষুব্ধ হওয়া এবং সংবাদকর্মীদের সাথে অসহযোগিতা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব ঘটনা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। এ ভাবে গোটা দেশে আলোচনায় আসে কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহান।

আলোচিত এই ইউএনও শামীমা আক্তার জাহানের বিরুদ্ধে সাবেক কর্মস্থল জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর একটি প্রকল্পে ৫৫টি ভুয়া শিক্ষাকেন্দ্র দেখিয়ে ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলা (নং-৪, নওগাঁ) দায়ের হয়। ভুয়া ভাউচারে স্বাক্ষর করে সরকারি অর্থ লোপাটে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। যুবককে থাপ্পর কেলেঙ্কারীর পরে আলোচনায় আসে তার দুদকের মামলার বিষয়টি। সব মিলে আলোচনার কেন্দ্রে এখন কালীগঞ্জ উপজেলা।

কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা(ইউএনও) শামীমা আক্তার জাহানকে তার সরকারী নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও তিনি রিসিভ করেননি।

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক (ডিসি) মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান বলেন, এসি'র বিষয়টি ফেসবুকে জেনেছি। অফিসিয়াল ভাবে কেউ জানায়নি। অফিসের এসি বাসায় লাগানোর সঠিকতার প্রশ্নে তিনি বলেন, এটা হওয়ার কথা নয়।