চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) অধীনে ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি খাল খনন প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সিডিউল অনুযায়ী কাজ না করে নামমাত্র খনন করায় প্রকল্পের প্রকৃত সুফল পাওয়া নিয়ে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে উপজেলার সাচার ইউনিয়নের সাচার-গৌরীপুর সড়কের পেট্রোল পাম্প থেকে সাবেক সংসদ সদস্য ডা. শহীদুল্লাহর বাড়ি পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নেয় চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড। সাচার, নয়াকান্দি ও রাগদাইলসহ কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার কৃষকের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করা এবং অকাল বন্যার হাত থেকে ফসল রক্ষার লক্ষ্যে এই প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।
নয়াকান্দি ও রাগদাইল গ্রামের ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, খাল খননের উদ্দেশ্যে কয়েক দিন আগে দুই পাড়ের অসংখ্য ফলজ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা হয়েছে এবং আবাদি ফসল নষ্ট করা হয়েছে। বড় পরিসরে খনন ও সেচ সুবিধার আশায় কৃষকরা তখন কোনো বাধা দেননি। কিন্তু বর্তমানে ভেকু (স্কেভেটর) মেশিন দিয়ে খালের ওপর থেকে নামমাত্র মাটি সরিয়ে দায়সারাভাবে কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। খালের গভীরতা ও প্রশস্ততা—কোনোটিই নিয়ম অনুযায়ী করা হয়নি।
কৃষকরা আরও জানান, খালের পাড়গুলো বাঁকা বা তির্যকভাবে কাটার নিয়ম থাকলেও তা করা হয়েছে একদম খাড়াভাবে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতে পাড় ধসে খালটি পুনরায় ভরাট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অনেক জায়গায় খালের পানি না সরিয়েই পানির নিচ থেকে দায়সারাভাবে মাটি কাটা হয়েছে, যার ফলে খালের তলদেশ সমতল হয়নি। কৃষকদের দাবি, এ অবস্থায় শুষ্ক মৌসুমে খালে পর্যাপ্ত পানি থাকবে না, ফলে সরকারের মূল উদ্দেশ্যই ভেস্তে যাবে।
এ বিষয়ে চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (প্রাক্কলনিক) জসিম উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, এই প্রকল্পের তদারকির দায়িত্বে ছিলেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী (শাখা কর্মকর্তা) মো. সোহানুর রহমান। তিনি বলেন, “কাজ যতটুকু হয়েছে, তা সঠিকভাবে পরিমাপ (মেজারমেন্ট) করেই বরাদ্দ দেওয়া হবে। তবে অনিয়ম করার কোনো সুযোগ নেই এবং এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।”
এলাকাবাসীর দাবি, সরকারি অর্থের অপচয় রোধে এবং কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রকল্পটির কাজ পুনরায় তদন্ত করে সিডিউল অনুযায়ী সম্পন্ন করা হোক।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments