Image description

চাঁদপুরের কচুয়ায় আকস্মিক ঝড় ও প্রবল বৃষ্টিতে বিস্তীর্ণ এলাকার বোরো ধান এবং ভুট্টা ক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ধান কাটার ভরা মৌসুমে প্রকৃতির এমন রুদ্ররূপে সোনালি ফসল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। ফসল হারানোর শঙ্কায় অনেক চাষির চোখে এখন জল।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যার ঝোড়ো হাওয়া এবং মঙ্গলবার দিনের টানা কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে উপজেলার বিভিন্ন ফসলি মাঠে হাঁটু সমান পানি জমে গেছে। এতে মাঠের পাকা ও আধা-পাকা বোরো ধান এবং ভুট্টা ক্ষেত তলিয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে কচুয়ায় ১৩ হাজার ৪১৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধান এবং ৩ হাজার হেক্টর জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ নিচু জমির ধান এখন পানির নিচে। বৃষ্টির তীব্রতায় প্রায় ২ হেক্টর জমির ভুট্টা গাছ মাটিতে হেলে পড়েছে। এছাড়া করলা, কুমড়া, ঢেঁড়স ও বেগুনসহ মৌসুমি সবজি ক্ষেতের ৬০ থেকে ৬৫ শতাংশ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। আকস্মিক এই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বড় ধরনের লোকসানের দুশ্চিন্তায় কৃষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে।

কৃষকরা জানান, হাড়ভাঙা খাটুনি আর চড়া সুদে ঋণ নিয়ে তারা ফসল ফলিয়েছেন। ধান ঘরে তোলার ঠিক আগমুহূর্তে এই বিপর্যয় তাদের নিঃস্ব করে দেওয়ার উপক্রম হয়েছে।

এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তপু আহমেদ বলেন, “প্রবল বৃষ্টিতে বোরো ধান ও ভুট্টা ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এখনই সব ফসল নষ্ট হয়ে গেছে—এমনটি বলা যাবে না। যদি বৃষ্টি দ্রুত থেমে যায় এবং পানি নেমে যায়, তবে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটা কম হবে। কিন্তু বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে কৃষকরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।”

উপজেলা কৃষি বিভাগ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করছে বলে তিনি জানান।

মানবকণ্ঠ/ডিআর