হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে বাবার মৃত্যুর পর শেষবারের মতো লাশ দেখার জন্য প্যারোলে মুক্তি পাননি বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি মো. শাহরুখ খান। অবশেষে প্রশাসনের সহযোগিতায় কারাফটকে মাত্র পাঁচ মিনিটের জন্য বাবার মরদেহ দেখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে তাকে। এই ঘটনায় ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন শাহরুখের স্বজনরা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) মধ্যরাতে বরিশালের নিউ সার্কুলার রোডের নিজ বাসা থেকে পুলিশ শাহরুখকে গ্রেপ্তার করে। এরপর থেকে তিনি বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন। বুধবার (৩০ অক্টোবর) সকালে তার বাবা আবুল বাশার খান (৫৮) হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। পেশায় তিনি বটতলা টেম্পোস্ট্যান্ডের একজন লাইনম্যান ছিলেন।
শাহরুখের ভাই সালমান খান জানান, বাবার মৃত্যুর পর কারাগারে থাকা ছোট ভাই শাহরুখের প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসকের দপ্তরে আবেদন করেছিলেন। সেখানে প্রায় দেড় ঘণ্টা তাঁদের বসিয়ে রাখা হয়। এরপর একজন ম্যাজিস্ট্রেট এসে বলেন, ‘আপনারা কারাগারে যান, আমরা সেখানে বলে দিচ্ছি।’
সালমান অভিযোগ করেন, কারাগারে যাওয়ার পর সেখানকার কর্মকর্তারা জানান, জেলা প্রশাসকের দপ্তর থেকে তাঁদের এ–সংক্রান্ত কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। পরে বিকেল পৌনে চারটায় মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে কারাগারে নেওয়া হয়। চারটার দিকে মরদেহের সঙ্গে তিনজনকে কারাগারে ঢুকতে দেওয়া হয়। মরদেহ দেখার জন্য কারা অভ্যন্তরে মাত্র পাঁচ মিনিট মরদেহ থাকতে দেওয়া হয়।
শাহরুখের আইনজীবী মিজানুর রহমান মিন্টু বলেন, শাহরুখকে প্যারোলে মুক্তির জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করা হয়েছিল; কিন্তু আবেদন গ্রহণ করা হয়নি।
বরিশালের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উপমা ফারিসা প্যারোলে মুক্তির আবেদন পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘ডিসি স্যার বলেছেন, আসামি শাহরুখের স্বজনদের কারাফটকে লাশ নিয়ে দেখা করানোর ব্যবস্থা করাতে। ডিসি স্যারের কথাটাই স্বজনদের আমি বলেছি।’
শাহরুখের পরিবার দাবি করেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে এ পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে মোট ১১টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে গ্রেপ্তারের আগেই ৮টি এবং পরে আরও ৩টি মামলায় তাকে আসামি করা হয়।
বুধবার বাদ আসর নগরের গাজীবাড়ি মসজিদে প্রথম জানাজা এবং পরে সদর উপজেলার কড়াপুর ইউনিয়নের পপুলার এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে আবুল বাশার খানের দাফন সম্পন্ন হয়।




Comments