Image description

নোয়াখালী সরকারি কলেজে শিক্ষকদের ওপর হামলা, প্রাণনাশের হুমকি এবং অধ্যক্ষের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিন নেতাকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং কলেজ শাখা সভাপতির পদ স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি বিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।

স্থায়ীভাবে বহিষ্কৃতরা হলেন—নোয়াখালী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুর্শিদুর রহমান রায়হান, সহ-সভাপতি আক্তারুজ্জামান বিশাল ও সহ-সাধারণ সম্পাদক তানভীর হোসেন শাওন। এছাড়া কলেজ শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সোহাগের পদ দুই মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে এবং সাবেক সভাপতি আকবর হোসেনকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, "শিক্ষকদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। ছাত্রদল এমন কোনো অপকর্ম সমর্থন করে না। জড়িতদের বিরুদ্ধে আমরা সর্বোচ্চ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিয়েছি।"
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, বুধবার দুপুরে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম ছানা উল্লাহ ও শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আফসার উদ্দিন জুয়েলসহ কয়েকজন শিক্ষক মধ্যাহ্নভোজে বসেছিলেন।

এ সময় রাশেদুল ইসলাম সোহাগের নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা অধ্যক্ষের কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং শিক্ষকদের খাবার প্লেট কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দেয়। এ সময় বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুনশাদুর রহমানকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে তাঁর গায়ের শার্ট ছিঁড়ে ফেলা হয় এবং ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

এই ঘটনার প্রতিবাদে এবং নিরাপত্তার দাবিতে ৬ দফা ঘোষণা করে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন কলেজের শিক্ষকরা। তাঁদের দাবির মধ্যে রয়েছে হামলাকারীদের ছাত্রত্ব বাতিল ও থানায় মামলা করা।

নোয়াখালী সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক এবিএম ছানা উল্লাহ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমার রুমে ভাঙচুর করা হয়েছে, এমনকি আমাদের খাবার টুকুও খেতে দেওয়া হয়নি। ছাত্রদের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। প্রয়োজনে শিক্ষকতা ছেড়ে দেব, তবুও এই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করব না।"

সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে কলেজে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মানবকণ্ঠ/আরআই