Image description

ইতালির লিসচে শহরে পারিবারিক বিরোধের জেরে ছোট ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর ভিডিও কলে দেশে থাকা পরিবারকে লাশ দেখানোর মতো লোমহর্ষক ঘটনা ঘটিয়েছেন এক প্রবাসী বাংলাদেশি। গত বুধবার (স্থানীয় সময় রাত ৮টা) ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই শহরে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত যুবকের নাম নয়ন ফকির এবং অভিযুক্ত বড় ভাইয়ের নাম হুমায়ুন ফকির। তারা মুন্সিগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার পশ্চিম সোনারং গ্রামের মো. দেলোয়ার হোসেনের ছেলে।

পারিবারিক ও নিহতের বন্ধুদের সূত্রে জানা যায়, হুমায়ুন ফকিরের প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার বিষয় নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে মতবিরোধ চলছিল। ছোট ভাই নয়ন তালাক না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়ায় তাদের দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হয়। এর জেরে বুধবার রাতে দুজনের মধ্যে বাগবিতণ্ডা শুরু হলে একপর্যায়ে বড় ভাই হুমায়ুন ক্ষিপ্ত হয়ে ছোট ভাই নয়নকে ছুরিকাঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই নয়নের মৃত্যু হয়।

সবচেয়ে মর্মান্তিক ব্যাপার হলো, হত্যার পরপরই হুমায়ুন দেশে থাকা পরিবারের সদস্যদের ভিডিও কল করেন এবং হত্যার কথা স্বীকার করে নয়নের রক্তাক্ত নিথর দেহ দেখান। মোবাইল ফোনের স্ক্রিনে এমন দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এলাকায় এ খবর ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ঘটনার পর পরই ইতালির স্থানীয় পুলিশ অভিযান চালিয়ে হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করে এবং তিনি বর্তমানে তাদের হেফাজতে রয়েছেন।

জানা গেছে, প্রায় ১২ বছর আগে হুমায়ুন ইতালি পাড়ি জমান। পরে ২০২৩ সালে তার সহায়তায় ছোট ভাই নয়নও সেখানে যান। এ বিষয়ে টঙ্গিবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুল হক ডাবলু জানান, ইতালিতে এক ভাইয়ের হাতে আরেক ভাই খুন হওয়ার খবরটি তারা শুনেছেন, তবে এ ঘটনায় থানায় এখনো কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেননি।

মানবকণ্ঠ/আরআই