জেলা ছাত্রদলের নবঘোষিত আংশিক কমিটিকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাঙ্গামাটি। কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে পদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে ঘোষিত কমিটি বাতিলের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন পদবঞ্চিত নেতাকর্মীদের একাংশ।
রোববার (৩ মে) সকালে রাঙ্গামাটি শহরের পৌরসভা চত্বর থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে কাঠালতলীস্থ জেলা বিএনপি কার্যালয়ের সামনে গিয়ে অবস্থান নেয়। এ সময় বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানান। তাদের এই কর্মসূচির কারণে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এই পকেট কমিটি ঘোষণা করেছেন। তাদের স্লোগান ছিল— ‘টাকা লাগলে টাকা নে, নতুন করে কমিটি দে’।
এছাড়া তাদের আরও কয়েকটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো হলো; কমিটিতে অছাত্র, বিবাহিত এবং রাঙ্গামাটি শহরের বাইরে বসবাসকারীদের পদ দেওয়া হয়েছে, রাজস্থলী উপজেলার ছাত্রদল নেতাকে জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক করায় স্থানীয় তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে এবং যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া নবগঠিত কমিটির সহসভাপতি নূর তালুকদার মুন্না বলেন, “যাকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে, তিনি রাজস্থলী থেকে আসা। তিনি রাঙ্গামাটি শহরের নেতাকর্মীদেরই চেনেন না। এমন কাউকে আমরা নেতা হিসেবে মেনে নেব না।”
যুগ্ম সম্পাদক পারভেজ হোসেন সুমন অভিযোগ করে বলেন, “আমরা নিশ্চিত তথ্য পেয়েছি যে, টাকা ও আইফোনের বিনিময়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ছাত্রদলকে শক্তিশালী করতে হলে নিয়মিত ছাত্রদের দিয়ে কমিটি গঠন করতে হবে। অবিলম্বে এই বিতর্কিত কমিটি বাতিল করতে হবে।”
অন্যদিকে, নবগঠিত কমিটির সভাপতি অলি আহাদ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছেন। তিনি বলেন, “ছাত্রদল বড় সংগঠন, এখানে প্রত্যাশা বেশি থাকা স্বাভাবিক। সবাইকে একসঙ্গে সন্তুষ্ট করা সম্ভব নয়। যারা পদ পাননি, তাদের ক্ষোভ থাকাটা অসাভাবিক কিছু না। তবে সবাইকে দলীয় শৃঙ্খলা মেনে কেন্দ্রের ওপর আস্থা রাখতে হবে।”
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালের মে মাসে রাঙ্গামাটি জেলা ছাত্রদলের সর্বশেষ কমিটি গঠিত হয়েছিল। দীর্ঘ ৬ বছর পর ঘোষিত ২৩ সদস্যের এই আংশিক কমিটিকে ঘিরে এখন দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছে জেলার ছাত্র রাজনীতি।




Comments