সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের আন্দ্রা গ্রামে একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ সড়ক দখল করে চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এতে দীর্ঘ দিন ধরে ওই সড়ক ব্যবহারকারী অন্তত ২০টি পরিবার চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আন্দ্রা গ্রামের পূর্বপাড়া থেকে আশপাশের কয়েকটি এলাকার সঙ্গে সংযোগকারী এই সড়কটি প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ বছর ধরে এলাকাবাসীর একমাত্র যাতায়াতের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। প্রতিদিন স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কৃষক ও রোগীসহ সাধারণ মানুষ এই পথ দিয়েই যাতায়াত করেন। জনস্বার্থে স্থানীয় সরকার বিভাগ সড়কটি হেরিংবোন (ইট বিছানো) পদ্ধতিতে পাকাকরণ করে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্প্রতি একই গ্রামের মৃত আছির উদ্দিনের ছেলে মো. মজিবর রহমান ওই সড়কের ইট তুলে ফেলেন এবং রাস্তার মাঝখানে বেড়া দিয়ে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন। এর ফলে যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, "এই রাস্তা দিয়ে আমাদের বাচ্চারা স্কুলে যায়, অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নিতে হয়। কিন্তু এখন বেড়া দেওয়ায় চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমরা বাধ্য হয়ে অনেক ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করছি, যা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য।"
কৃষক মো. জুবায়ের হোসেন জেমস বলেন, "ধানসহ কৃষিপণ্য আনা-নেওয়ায় বড় সমস্যায় পড়েছি। কয়েক দিন আগে ধান কেটে বাড়ির বাইরে রেখেছি, কিন্তু গাড়ি আসতে না পারায় ধান নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দ্রুত রাস্তাটি খুলে না দিলে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে।"
স্থানীয়রা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সামাজিকভাবে মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও অভিযুক্ত মজিবর রহমান তা মানেননি। পরে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে মজিবর রহমান বলেন, "আমি কোনো সরকারি রাস্তা দখল করিনি। আমার নিজস্ব জমির সীমানার মধ্যেই বেড়া দিয়েছি। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে আমাকে দোষারোপ করা হচ্ছে।"
রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আব্দুল খালেক পাটোয়ারী বলেন, "এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।"
ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সড়কটি থেকে সকল প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করে দ্রুত যাতায়াত স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments