Image description

চট্টগ্রাম নগরবাসীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ও দায়িত্বশীল আচরণ ছাড়া শুধু সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) একার পক্ষে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

রোববার (৩ মে) দুপুরে নগরীর পূর্ব ও পশ্চিম মাদারবাড়ী এবং পাঠানটুলী ওয়ার্ডে জলাবদ্ধতা নিরসনে নালা-নর্দমা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার মাসব্যাপী কার্যক্রম পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মেয়র বলেন, ‘সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নালা-নর্দমা পরিষ্কার করার পরও যদি সেখানে প্লাস্টিক, পলিথিন ও গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলা হয়, তবে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধান কোনোভাবেই সম্ভব নয়। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা দিনরাত পরিশ্রম করছেন, তাই নাগরিকদেরও নিজ দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে।’

পরিদর্শনকালে মেয়র সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে আগ্রাবাদ কমার্শিয়াল এরিয়াসহ পার্শ্ববর্তী কিছু এলাকায় পানিবদ্ধতার কারণে সৃষ্ট সাময়িক ভোগান্তিতে দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি জানান, গুলজারখাল এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইস গেট নির্মাণকাজের সুবিধার্থে একটি অস্থায়ী বাঁধ দেওয়ায় এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড ও পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত এই কাজ সম্পন্ন করার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। স্লুইস গেট নির্মাণ শেষ হলে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে এবং ওই এলাকায় জলাবদ্ধতা অনেকাংশে কমে আসবে।

নগরের অন্যান্য প্রকল্পের বিষয়ে মেয়র জানান, বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ হিজড়া খাল ও জামালখান খালের সংস্কারকাজ পুরোদমে চলছে। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এসব প্রকল্প শেষ করতে সংশ্লিষ্টদের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ‘গত বছর জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা প্রায় ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ সফল হয়েছি। চলমান উন্নয়ন কাজগুলো শেষ হলে নগরবাসী এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাবে।’

ডা. শাহাদাত হোসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নিজ নিজ এলাকার পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় তদারকি করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, প্রতি সপ্তাহে নাগরিকরা যদি নিজ নিজ বাড়ির চারপাশ ও ড্রেন পরিষ্কার রাখার সংস্কৃতি গড়ে তোলেন, তবে তা একসময় সামাজিক আন্দোলনে পরিণত হবে। পরিচ্ছন্ন চট্টগ্রাম গড়ার এই লড়াইয়ে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

মানবকণ্ঠ/ডিআর