আখাউড়ায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধূর চুল কেটে নির্যাতন, স্বামী পলাতক
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় যৌতুকের দাবিতে এক গৃহবধূকে বর্বরোচিত নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। পাষণ্ড স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা মিম আক্তার (২৪) নামের ওই গৃহবধূর মাথার চুল কেটে দিয়েছে এবং ছুরিকাঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেছে।
মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের রামধনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে রামধনগর গ্রামের ইসহাক মিয়ার ছেলে দীন ইসলাম দেলুর সঙ্গে মিম আক্তারের বিয়ে হয়। তাদের পাঁচ বছরের একটি পুত্রসন্তান রয়েছে। অভিযুক্ত দীন ইসলাম নরসিংদীতে সেলুনের কাজ করেন। সম্প্রতি ব্যবসার কথা বলে তিনি মিমের পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে আসছিলেন। এ নিয়ে মিমের ওপর প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো।
নিহত গৃহবধূর মা পুতুল বেগম ও ভাই জিহাদুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকালে আবারও ৫ লাখ টাকার জন্য মিমকে চাপ দেন দীন ইসলাম। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দীন ইসলাম ও তার স্বজনরা মিমকে বেধড়ক মারধর শুরু করেন। একপর্যায়ে মিমের মাথার চুল কেটে ভিডিও ধারণ করা হয়। বাধা দিলে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয়, এতে তার হাত ও মুখমণ্ডলে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়। পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠান।
ভুক্তভোগীর বাবা জহিরুল ইসলাম বলেন, "আমার মেয়ের ওপর অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে। যারা তার চুল কেটে দিয়েছে এবং রক্ত ঝরিয়েছে, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।"
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী দীন ইসলাম দেলু পলাতক রয়েছেন। তার ব্যবহৃত মুঠোফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদ উল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "এ ঘটনায় নির্যাতিতার মা বাদী হয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্ত দীন ইসলামকে গ্রেফতারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।"
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments