অবহেলা কাটিয়ে জিয়া পুকুর হতে পারে কুড়িগ্রামের দৃষ্টিনন্দন ইকো-পার্ক
সবুজ বনরাজির ছায়া আর বিশাল জলরাশির মিতালি—এমন এক নান্দনিক পরিবেশের দেখা মিলবে কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার টুপামারী এলাকায়। এখানকার ঐতিহ্যবাহী ‘জিয়া পুকুর’ বর্তমানে স্থানীয়দের বিনোদনের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও আধুনিক পরিকল্পনার ছোঁয়া পেলে ২৫ একরের এই বিশাল জলাশয়টি হয়ে উঠতে পারে উত্তরবঙ্গের অন্যতম সমৃদ্ধ ইকো-পার্ক।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৮০-৮১ সালের দিকে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান কৃষি উন্নয়ন ও স্থানীয়দের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে এই পুকুর খননের উদ্যোগ নেন। প্রায় ২৫ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই পুকুরের চারপাশ ঘিরে রয়েছে আম, জাম, কাঁঠালসহ প্রায় দেড় হাজার ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ। প্রাকৃতিক এই নিবিড় পরিবেশ প্রতিদিন শত শত পর্যটককে আকৃষ্ট করছে।
লালমনিরহাট থেকে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী রাকিবুল ইসলাম জানান, আধুনিক সুযোগ-সুবিধার অভাবে পুকুরটির সম্ভাবনা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। কুড়িগ্রামের মতো প্রান্তিক জেলাগুলোতে বিনোদনের জায়গা নেই বললেই চলে। জিয়া পুকুরকে যদি পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করা হয়, তবে জেলার বাইরে থেকেও মানুষ এখানে আসবে।
অন্য এক দর্শনার্থী তানভীর বলেন, “আমাদের এলাকায় ভালো মানের কোনো পার্ক বা পিকনিক স্পট নেই। দিনাজপুর বা রংপুরের স্বপ্নপুরী কিংবা ভিন্নজগতের আদলে যদি এখানে রাইড ও বসার ব্যবস্থা করা হয়, তবে কুড়িগ্রামের মানুষকে আর দূরে যেতে হবে না। এটি নিজেই একটি শক্তিশালী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, কুড়িগ্রাম একটি সীমান্তঘেঁষা জেলা হওয়ায় এখানে উন্নত মানের বিনোদন কেন্দ্রের অভাব দীর্ঘদিনের। যথাযথ অবকাঠামোগত উন্নয়ন, শিশুদের খেলার ব্যবস্থা এবং নৌকা ভ্রমণের সুযোগ তৈরি করা গেলে এটি সরকারের রাজস্ব আয়ের বড় উৎস হতে পারে। অথচ সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এর সৌন্দর্য ম্লান হচ্ছে।
টুপামারী এলাকার সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলের দাবি, বর্তমান সরকার যেন এই ঐতিহ্যবাহী স্থানটিকে সংস্কার করে একটি আধুনিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলে। এতে স্থানীয়দের কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি কুড়িগ্রামের অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে তারা মনে করেন।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments