Image description

শরীয়তপুর সদর উপজেলার প্রেমতলা এলাকার মানুষের বহুদিনের প্রত্যাশা ছিল একটি নিরাপদ ও আধুনিক সেতু। পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর পরিবর্তে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন সেতু নির্মাণ করা হলেও সেই স্বপ্ন এখনো পূরণ হয়নি। কারণ সেতুর সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না নতুন সেতুটি। ফলে বাধ্য হয়েই এখনও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পুরোনো সেতু ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রেমতলা সেতুটি ২০১৭ সালেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির বিভিন্ন অংশে ফাটল, দেবে যাওয়া এবং কাঠামোগত দুর্বলতা দেখা দিলেও বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিদিনই এই সেতু ব্যবহার করছেন হাজারো মানুষ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও কর্মজীবীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

এ অবস্থায় এলাকাবাসীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ২০২৩-২০২৪ অর্থবছরে সড়ক ও জনপথ বিভাগ নতুন একটি সেতু নির্মাণ করে। প্রায় ২০০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির মূল কাঠামোর কাজ শেষ হলেও দুই পাশে প্রায় ৪০০ মিটার সংযোগ সড়কের কাজ এখনো অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে। এতে পুরো প্রকল্পের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

বর্তমানে অস্থায়ীভাবে যান চলাচলের ব্যবস্থা করা হলেও সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে সেখানে তৈরি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদায় পরিণত হয় সড়কটি। এতে যানবাহন চলাচল যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কোটি টাকা ব্যয়ে সেতু নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়কের কাজ শেষ না হওয়ায় পুরো প্রকল্প কার্যত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। দ্রুত কাজ সম্পন্ন না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

পরিবহনচালকদের ভাষ্য, নতুন সেতুর সংযোগ পথ ব্যবহার উপযোগী না হওয়ায় ছোট যানবাহনগুলো এখনও পুরোনো ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়েই চলাচল করছে। বিশেষ করে সিএনজি, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চালকদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী নাবিল হোসেন বলেন, “জমি অধিগ্রহণসহ কিছু জটিলতার কারণে সংযোগ সড়কের কাজ শেষ করতে দেরি হচ্ছে। তবে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে নতুন সেতুটি পুরোপুরি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”