রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নের শুকনোছড়া এলাকায় দুর্বৃত্তদের গুলিতে হেগেরা চাকমা (৩৫) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত হেগেরা চাকমা আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ (প্রসীত গ্রুপ)-এর সক্রিয় কর্মী বলে জানা গেছে।
শনিবার (৯ মে) ভোর আনুমানিক ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের শুকনোছড়া এলাকায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত হেগেরা চাকমা সাজেক ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের রেতকাবা এলাকার বাসিন্দা হলেও দীর্ঘদিন ধরে শুকনোছড়া এলাকায় বসবাস করছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে মারিশ্যা-দীঘিনালা সড়কের শুকনোছড়া এলাকায় একদল অস্ত্রধারী অবস্থান নেয়। হেগেরা চাকমাকে দেখতে পেয়ে তারা কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। প্রাণ বাঁচাতে তিনি পালানোর চেষ্টা করলে সন্ত্রাসীরা তাকে ধাওয়া করে লক্ষ্যভ্রষ্ট গুলি চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দয়াধন চাকমা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুকনোছড়া এলাকায় ইউপিডিএফ সদস্য হেগেরা চাকমাকে হত্যা করা হয়েছে। তবে কারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান অতুলাল চাকমা জানান, এলাকাটি দীঘিনালা ও সাজেক ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা। ওই এলাকায় ইউপিডিএফ (প্রসীত) ও ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক) উভয় দলেরই সক্রিয় তৎপরতা রয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইউপিডিএফ-এর মুখপাত্র অংগ্য মারমা হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে দাবি করেন, নিহত হেগেরা চাকমা তাদের দলের কর্মী ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য তিনি ‘নব্য মুখোশধারী’ বা প্রতিপক্ষ গ্রুপকে দায়ী করেছেন।
রাঙ্গামাটির পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আব্দুর রকিব জানান, সাজেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে একজন নিহতের খবর পাওয়া গেছে। এলাকাটি অত্যন্ত দুর্গম হওয়ায় পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সময় লাগছে। পুলিশ সেখানে পৌঁছালে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও বিস্তারিত তথ্য জানা যাবে।




Comments