রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের নবনির্মিত ভবনে রোগী স্থানান্তরের প্রস্তুতির মাঝেই প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার বৈদ্যুতিক তার চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ দুজনকে আটক করলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গণপূর্ত বিভাগের নির্মিত সদর হাসপাতালের নতুন ভবনে আসবাবপত্র ও রোগী হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। শনিবার (৯ মে) ঢাকা থেকে আসা টেকনিশিয়ানরা ভবনের বৈদ্যুতিক সংযোগ পরীক্ষা করতে গিয়ে দেখেন, ডাবল ফেজের বিপুল পরিমাণ দামি তার গায়েব। ধারণা করা হচ্ছে, মাদকাসক্তরা এই চুরির ঘটনার সঙ্গে জড়িত।
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. এস এম হান্নান চুরির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “নতুন ভবনের ডাবল ফেজের অনেক তার চুরি হয়েছে। বিষয়টি আমি পুলিশকে জানালে তারা অভিযান চালিয়ে দুজনকে আটক করে। পুলিশের কাছে তারা চুরির কথা স্বীকারও করেছে।”
তবে চুরির ঘটনায় কেন মামলা করা হয়নি—এমন প্রশ্নে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. শাহেদুল ইসলাম জানান, “সরকারি হাসপাতালের তার চুরির ঘটনায় দুজনকে আটক করা হলেও হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক কোনো লিখিত অভিযোগ দেননি। আমি এবং সিভিল সার্জন তাকে একাধিকবার মামলা করার অনুরোধ জানালেও তিনি রাজি হননি।”
পুলিশ কর্মকর্তা আরও যোগ করেন, “ডা. হান্নান আমাদের জানিয়েছেন—চুরির সঙ্গে স্থানীয়রা জড়িত। অভিযোগ করলে তার ওপর হামলা হতে পারে। এই ভয়ে তিনি লিখিত অভিযোগ দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেছেন। সরকারি অফিসের চুরির ঘটনায় কর্তৃপক্ষ অভিযোগ না দিলে পুলিশের পক্ষে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।”
একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার এমন ‘ভীতি’ ও অভিযোগ দিতে অনীহার কারণে সরকারি সম্পদ লুটকারীরা পার পেয়ে যাওয়ায় স্থানীয় সচেতন মহলে ক্ষোভ ও বিস্ময় বিরাজ করছে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments