Image description

ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ফুলগাজী আমলি) আদালতে বিচারকের সামনেই বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন তাহমিনা আক্তার মোহনা নামে এক গৃহবধূ। দাম্পত্য কলহ ও স্বামীর নির্যাতনের প্রতিকার না পেয়ে ক্ষোভে তিনি এই পথ বেছে নেন। ঘটনার পরপরই আদালত মোহনার স্বামী আকবর হোসেনের জামিন বাতিল করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।

রোববার (১০ মে) দুপুরে ফেনী আদালত চত্বরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটে। মুমূর্ষু অবস্থায় মোহনাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আদালত ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ফেনী সদর উপজেলার পশ্চিম রামপুর এলাকার মিজানুর রহমানের মেয়ে তাহমিনা আক্তার মোহনার সঙ্গে ফুলগাজী উপজেলার বিজয়পুর গ্রামের আকবর হোসেনের প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না।

মোহনার অভিযোগ, তার স্বামী ইতিপূর্বে একাধিক বিয়ে করেছেন এবং প্রথম স্ত্রীর প্ররোচনায় তার ওপর নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন। এ ঘটনায় মোহনা স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেন।

রোববার ওই মামলার শুনানির নির্ধারিত দিন ছিল। মোহনার আইনজীবী শরফুদ্দিন আহম্মদ ডালিম ও জহির উদ্দিন জানান, শুনানিকালে আসামি আকবর হোসেন স্থায়ী জামিনের আবেদন করলে বাদী মোহনা এর তীব্র বিরোধিতা করেন। মোহনা আদালতে অভিযোগ করেন, স্বামী তাকে ঘরে তুলতে চান না এবং তাকে চরম অবহেলার শিকার হতে হচ্ছে।

শুনানি চলাকালে মোহনা চিৎকার করে বলেন, "আজ যদি এই ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান না হয়, তবে আমি বিষ খাব।" এর পরপরই তিনি সঙ্গে আনা বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। আদালত প্রাঙ্গণে থাকা আইনজীবী, পুলিশ ও স্বজনরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোহাম্মদ মিনহাজ উদ্দিন আসামি আকবর হোসেনের জামিন নামঞ্জুর করেন এবং তাকে সরাসরি কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

ফেনী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রুবাইয়াত বিন করিম জানান, বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত ওই নারীকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে পাকস্থলী পরিষ্কার (ওয়াশ) করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর