রায়গঞ্জে মহাসড়ক দখল করে অবৈধ পাথর ব্যবসা, বাড়ছে দুর্ঘটনার শঙ্কা
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ঘুড়কা বাজার এলাকায় ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পাথর মজুত ও বিক্রির রমরমা বাণিজ্য চলছে। মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ দখল করে গড়ে তোলা এসব অবৈধ পাথর ডিপোর কারণে একদিকে যেমন যানজট সৃষ্টি হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘুড়কা ইউনিয়নের পাপিয়া হোটেলসহ বিভিন্ন হোটেলের পাশে মহাসড়কের কোল ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে একাধিক পাথরের স্তূপ। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘুড়কা দাসপাড়া গ্রামের চন্দন সরকার, তরুণ রায়, নীতিশ কুমার সরকার এবং মো. আব্দুল লতিফ হোসেন দীর্ঘদিন ধরে কোনো অনুমোদন ছাড়াই এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উত্তরবঙ্গ থেকে বিভিন্ন উন্নয়ন কাজের জন্য আসা পাথরবাহী ট্রাক থেকে কৌশলে কিছু অংশ কম দামে কিনে মহাসড়কের পাশে স্তূপ করে রাখা হয়। পরবর্তীতে একটি অসাধু চক্র এসব পাথর খুচরা ও পাইকারি দরে বিক্রি করে। পাথর লোড-আনলোডের সময় ট্রাকগুলো মহাসড়কের ওপর দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এছাড়া বাতাসের সঙ্গে ওড়া পাথরের ধুলায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, যা আশপাশের মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মিশুক চালক আতিকুল ও লতিফ জানান, “মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পাথরবাহী ট্রাক রাখার কারণে রাস্তা অনেক সরু হয়ে গেছে। সামান্য অসতর্কতায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। এছাড়া রাতে চলাচলের সময় এসব ট্রাক ও পাথরের স্তূপের কারণে চালকরা বিভ্রান্তিতে পড়েন।”
একই অভিযোগ করে এক পরিবহণ চালক বলেন, “রাস্তার পাশে পাথর ও ট্রাক থাকায় রাতে গাড়ি চালানো খুব ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। সবসময় দুর্ঘটনার ভয় নিয়ে চলতে হয়।”
এ বিষয়ে হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “মহাসড়কের পাশে অবৈধভাবে পাথর মজুত ও বিক্রির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। দ্রুত অভিযান পরিচালনা করে রাস্তা দখলমুক্ত করা হবে এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মহাসড়কের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে দ্রুত এসব অবৈধ স্থাপনা ও পাথরের ডিপো অপসারণের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments