Image description

সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবায় চরম অব্যবস্থাপনা ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। দেড় বছরের এক শিশুর ইউরিন (প্রস্রাব) স্যাম্পল ল্যাবে জমা না দিলেও হাসপাতাল থেকে ওই পরীক্ষার রিপোর্ট সরবরাহ করার এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। এ নিয়ে ভুক্তভোগী অভিভাবকের মাঝে চরম ক্ষোভ ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী ও অভিযোগকারী তানভির হাসান জানান, তার দেড় বছরের শিশুসন্তান রাহাত গত তিনদিন ধরে উচ্চ জ্বরে আক্রান্ত ছিল। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে সুচিকিৎসার আশায় তিনি শিশুটিকে সিরাজগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে কয়েকটি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পরামর্শ দেন।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তানভির হাসান হাসপাতালের ল্যাবে শিশুর রক্তসহ প্রয়োজনীয় নমুনা জমা দেন। তবে শিশুটি দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব না করায় তিনি ইউরিন স্যাম্পল সংগ্রহ করতে পারেননি এবং তা ল্যাবে জমাও দেননি। স্যাম্পল সংগ্রহের জন্য হাসপাতাল থেকে দেওয়া টিউবটি তখনও তার কাছেই ছিল।

বিস্ময়কর ঘটনাটি ঘটে দুপুর ১২টার দিকে, যখন তিনি রিপোর্ট সংগ্রহ করতে যান। তানভির হাসান অভিযোগ করেন, ল্যাব থেকে তাকে তিনটি টেস্টের রিপোর্ট দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি ছিল ইউরিন পরীক্ষার রিপোর্ট। কোনো নমুনা জমা না দিয়েই কীভাবে পরীক্ষার রিপোর্ট তৈরি হলো, তা নিয়ে তিনি হতবাক হয়ে যান।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তানভির হাসান বলেন, "যেখানে আমি স্যাম্পল সংগ্রহের টিউবটি হাতে নিয়ে বসে আছি, সেখানে ল্যাব থেকে আমাকে ইউরিন রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে। এটি কি আদৌ চিকিৎসা নাকি সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা? এ ধরনের ভুল রিপোর্টে ভুল চিকিৎসা হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। হাসপাতালের ল্যাবে এ ধরনের দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ডে সাধারণ রোগীরা সঠিক সেবা পাওয়া নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েছেন। ভুক্তভোগী অভিভাবক এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

মানবকণ্ঠ/ডিআর