দুর্নীতির পাহাড়সম অভিযোগে ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) প্রকৌশলী আব্দুস সালাম ব্যাপারীসহ প্রতিষ্ঠানটির তিন ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্ষমতার অপব্যবহার, বিপুল অঙ্কের ঘুষ গ্রহণ, মানহীন নির্মাণসামগ্রী ক্রয় এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের মাধ্যমে শত শত কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখছে সংস্থাটি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুদকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এমডি ছাড়াও অভিযুক্ত অন্য তিন কর্মকর্তা হলেন— ওয়াসার একটি প্রকল্পের পরিচালক প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ওয়াজ উদ্দিন ওয়াজ এবং নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
দুদক সূত্রে জানা যায়, ওয়াসার এমডি আব্দুস সালাম ব্যাপারীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। রাজধানীর বারিধারা ডিওএইচএস ও বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় তার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ফ্ল্যাট থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। এমনকি কানাডার টরন্টোতে বাড়ি এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে প্রায় ৫০ কোটি টাকার এফডিআর ও সঞ্চয়পত্র থাকার অভিযোগও রয়েছে। এমডির এই দুর্নীতির অভিযোগগুলো অনুসন্ধান করছেন দুদকের উপপরিচালক মো. আহসানুল কবীর পলাশ।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত বাকি তিন প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ‘এনভায়রনমেন্টালি সাসটেইনেবল ওয়াটার সাপ্লাই প্রজেক্ট’-এ ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তারা মূল চুক্তিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানের বদলে একটি অনভিজ্ঞ চীনা কোম্পানির কাছ থেকে কম দামি ও মানহীন ডাকটাইল আয়রন পাইপ কিনে বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি দল এই তিন প্রকৌশলীর দুর্নীতি তদন্ত করছে।
দুদক সূত্র আরও জানায়, ঢাকা ওয়াসার বড় প্রকল্পগুলোতে ঠিকাদার নিয়োগে অনিয়ম, ঘুষের লেনদেন, অস্বাভাবিকভাবে ব্যয় বাড়ানো এবং সময়মতো কাজ শেষ না করার দীর্ঘদিনের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ সংযোগ, মিটার রিডিংয়ে গাফিলতি এবং পাইপলাইন লিকেজের কারণে বড় ধরনের সিস্টেম লস ও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে প্রতিষ্ঠানটি।
দুদক বর্তমানে এসব অভিযোগের প্রাথমিক তথ্য-উপাত্ত ও প্রমাণাদি সংগ্রহ করছে, যার ভিত্তিতে দ্রুতই পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




Comments