কুয়াকাটায় শত কোটি টাকার সরকারি খাস জমি বিক্রির পাঁয়তারা
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা পর্যটন এলাকায় শত কোটি টাকার সরকারি খাস জমি অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে বন্দোবস্ত নিয়ে বিক্রির পাঁয়তারা চালাচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল। ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে এসব মহামূল্যবান জমি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা পর্যটন এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, কুয়াকাটার কয়েকজন প্রভাবশালী ভূমিদস্যু ও রাজনৈতিক নেতা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত। অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯৭৪-৭৫ সালের পুরোনো তারিখ দেখিয়ে ২০০৯ সালে অনেক বিতর্কিত বন্দোবস্ত রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। এমনকি কবুলিয়ত রেজিস্ট্রির আগেই অনেক জমির নামজারি (মিউটেশন) সম্পন্ন করার মতো চাঞ্চল্যকর তথ্যও সামনে এসেছে। এই চক্রটি বর্তমানে দখলহীন এসব জমির কথিত মালিকদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে এক-তৃতীয়াংশ ভাগের বিনিময়ে জমিগুলো বিক্রির জন্য বিভিন্ন মহলে জোর তদবির চালাচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, কুয়াকাটা পৌরসভার ৩, ৬, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহাসড়ক সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ খাস জমিতে কয়েকশ পরিবার দীর্ঘ ৫০-৬০ বছর ধরে বসবাস করছে। ৯ নম্বর ওয়ার্ডের হোসেনপাড়া এলাকায় ১.৫ একর জমি জনৈক হাকিম নামের এক ব্যক্তির নামে বন্দোবস্ত দেখিয়ে বিক্রির চেষ্টা চলছে, যেখানে বর্তমানে ১৯টি ভূমিহীন পরিবার ঘরবাড়ি ও গাছপালা নিয়ে বসবাস করছে। স্থানীয় বাসিন্দা শহিদ মিস্ত্রি ও দুলাল জানান, তাঁরা তিন পুরুষ ধরে এখানে বসবাস করলেও এখন একটি চক্র তাঁদের উচ্ছেদ করে জমি বিক্রির পাঁয়তারা করছে।
এদিকে, লতাচাপলী মৌজায় ৪ একর ৭৭ শতক খাস জমি জালিয়াতির মাধ্যমে দখলের ঘটনা ঘটেছে, যার বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ৮ কোটি টাকা। নথিপত্রে দেখা গেছে, যে সময়ে জমিটি বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছিল, তখন কথিত গ্রহীতার বয়স ছিল মাত্র ৮ বছর। এ নিয়ে ২০১১ সালে আদালতে মামলাও দায়ের করা হয়েছে।
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, “কুয়াকাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় এভাবে খাস জমি দখল হয়ে গেলে ভবিষ্যতে সরকারের বড় ক্ষতি হবে। জালিয়াতির মাধ্যমে যারা জমি দখল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে অভিযান চালানো উচিত।”
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসীন সাদেক বলেন, “অনিয়মের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। সরকারি সম্পদ রক্ষায় সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরী জানান, বিষয়টির সত্যতা ও সরকারি নথিপত্র যাচাই করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট এসি ল্যান্ডকে নির্দেশ দেওয়া হবে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments