Image description

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) বাবুল চন্দ্র রায়ের বিরুদ্ধে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দের বিপরীতে ১৫ শতাংশ কমিশনের নামে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া ৪ মিনিট ৪৭ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয়ে কয়েকজন প্রকল্প সভাপতি ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সঙ্গে অর্থ লেনদেন নিয়ে কথোপকথন দেখা যায়। সেখানে বাবুল চন্দ্র রায়কে ক্যালকুলেটরে হিসাব করে বিভিন্ন প্রকল্পের বরাদ্দের ১৫ শতাংশ কমিশন নির্ধারণ করতে দেখা যায়।

ভিডিওর এক পর্যায়ে তিনি এক ইউপি সদস্যকে বলেন, “৩২ হাজার টাকা করে ৮ টন গম হলে মোট ২ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। এর ১৫ শতাংশ দিলে ৩৮ হাজার টাকা হয়।” জবাবে ওই সদস্য কমিশন কিছুটা কমানোর অনুরোধ জানালে তিনি বলেন, “ইউপি সদস্যদের কোনো দিন লাভ হয় না। আমি এতদিন পিআইও হিসেবে কাজ করছি, কোনো ইউপি সদস্যকে বলতে শুনিনি যে তার লাভ হয়েছে।”

আরেক অংশে টিআর প্রকল্পের ১ লাখ ৬২ হাজার টাকার বরাদ্দের বিপরীতে ২৪ হাজার টাকা কমিশন দাবি করার কথা শোনা যায়। এছাড়া ১ লাখ ২০ হাজার টাকার আরেকটি প্রকল্পে ১৮ হাজার টাকা এবং একাধিক প্রকল্প মিলিয়ে মোট ৫৬ হাজার টাকা দাবির কথাও ভিডিওতে উঠে এসেছে।

ভিডিওর শেষাংশে কয়েকজনকে টাকা গুনতে এবং ফাইলের সামনে অর্থ রাখতে দেখা যায়।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা বাবুল চন্দ্র রায়। তিনি বলেন, “ওরা কাজ না করেই বিল নিতে এসেছিল। সে কারণেই এমন কথাবার্তা হয়েছে।”

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইন্দ্রজিৎ সাহা জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। জেলা প্রশাসকসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।