বৈশ্বিক বাণিজ্য বিরোধ ও ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা এখনো তুঙ্গে থাকলেও দুবাইয়ের বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম কিছুটা কমেছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুবাইয়ে ২৪ ক্যারেট স্বর্ণের দাম প্রতি গ্রামে ৬২৫.৭৫ দিরহামে লেনদেন হয়েছে, যা গত বুধবার সন্ধ্যায় ছিল ৬২৮.২৫ দিরহাম।
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম বর্তমানে ৫ হাজার ১৯৮ দশমিক ৫২ ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশ কম। একই সময়ে রুপার দাম আউন্সপ্রতি ৩৩০ দশমিক ২৫ দিরহামে লেনদেন হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় ১ দশমিক ২ শতাংশ কম।
দুবাইয়ের বাজারে অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও সামান্য নিম্নমুখী। ২২ ক্যারেট স্বর্ণ প্রতি গ্রাম ৫৭৯ দশমিক ২৫ দিরহাম, ২১ ক্যারেট ৫৫৫ দশমিক ৫০ দিরহাম এবং ১৮ ক্যারেট ৪৭৬ দশমিক ২৫ দিরহামে বিক্রি হচ্ছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপ এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদ থেকে সরে স্বর্ণের মতো নিরাপদ বিনিয়োগে (Safe Haven) ঝুঁকছেন। আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক জেপি মরগান তাদের দীর্ঘমেয়াদী পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ স্বর্ণের দাম প্রতি আউন্স ৬ হাজার ৩০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
এদিকে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান পরমাণু আলোচনা এবং পূর্ব ইউরোপের সংঘাতময় পরিস্থিতিও বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামকে প্রভাবিত করছে।
অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের বাজারেও। সবশেষ গত ২৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দাম পুনঃনির্ধারণ করেছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম রেকর্ড ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।
সূত্র: খালিজ টাইমস
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments