মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেই স্বস্তির খবর দিচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর। সংঘাতের ভয়াবহতা বাড়ার আগেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালী’ অতিক্রম করা ১৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ একে একে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে শুরু করেছে। এসব জাহাজে রয়েছে বিপুল পরিমাণ এলএনজি, এলপিজি, জ্বালানি তেল এবং বিভিন্ন শিল্পকারখানার জরুরি কাঁচামাল।
শনিবার (৭ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে এসব তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া এই জাহাজগুলো সামরিক উত্তেজনা চরম রূপ নেওয়ার আগেই নিরাপদে আরব সাগরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে জাহাজগুলো ধাপে ধাপে বন্দরের জেটিতে ভিড়ছে এবং পণ্য খালাস কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ১৫টি জাহাজের মধ্যে অন্তত চারটিতে রয়েছে প্রায় দুই লাখ ৪৭ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি)। কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে আসা এই এলএনজি দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্পকারখানার ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ইতিমধ্যে ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামের দুটি জাহাজ এক লাখ ২৬ হাজার টন এলএনজি নিয়ে বন্দরে পৌঁছেছে। এছাড়া রোববার ‘সেভান’ (এলপিজি), সোমবার ‘লুসাইল’ এবং আগামী বুধবার ‘আল গালায়েল’ নামের এলএনজি ট্যাংকারগুলো বন্দরের জলসীমায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশ সাধারণত হরমুজ প্রণালী ব্যবহার করে কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ সাতটি দেশ থেকে জ্বালানি ও পণ্য আমদানি করে। বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এই রুটটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ওমান উপসাগর ও আরব সাগর হয়ে আসা এই জাহাজগুলো যথাসময়ে পৌঁছানোয় জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা কিছুটা কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, “সংঘাত শুরুর আগেই হরমুজ প্রণালী অতিক্রম করা ১৫টি জাহাজ বন্দরে আসতে শুরু করেছে। এর মধ্যে এলএনজি ও জ্বালানি তেলের পাশাপাশি গার্মেন্টস, প্লাস্টিক ও কেমিক্যাল শিল্পের প্রয়োজনীয় কাঁচামালও রয়েছে। বন্দরে পণ্য খালাস ও সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখতে আমরা বিশেষ নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা জোরদার করেছি।”
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments