Image description

দেশের শীর্ষস্থানীয় শরীয়াহ ভিত্তিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি প্রকাশ্যে মুনাফার চিত্র দেখালেও পর্দার আড়ালে ভয়াবহ আর্থিক সংকটে রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ব্যাংকটি তাদের প্রকৃত আর্থিক অবস্থা গোপন করে প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি লোকসান আড়াল করে রাখছে। শরীয়াহ নীতিমালা ও ব্যাংকিং আইন লঙ্ঘন করে আদায় না হওয়া ক্ষতিপূরণের অর্থ মুনাফায় অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে এই কৃত্রিম মুনাফা দেখানো হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আগস্ট পরবর্তী সময়ে ব্যাংকটির পর্ষদ পুনর্গঠিত হলেও আর্থিক স্থিতিশীলতা ফেরেনি। ব্যাংকের আইটি ও আর্থিক প্রশাসন বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমানে ব্যাংকের প্রকৃত লোকসান ৩ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। ইসলামী ব্যাংকিং নীতিমালা অনুযায়ী, খেলাপি বিনিয়োগের ওপর অর্জিত জরিমানা বা ক্ষতিপূরণ কেবল আদায় হলেই তা জনকল্যাণমূলক কাজে ব্যবহার করা যায়, কিন্তু ইসলামী ব্যাংক আদায়যোগ্য বা বকেয়া ক্ষতিপূরণকেও মুনাফা হিসেবে দেখাচ্ছে, যা শরীয়াহর দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অবৈধ।

প্রতিবেদনে আরও উঠে এসেছে যে, বর্তমানে ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। নথিপত্রে খেলাপি ঋণ ৪৮ শতাংশ দেখানো হলেও প্রকৃত হার প্রায় ৮০ শতাংশ বলে দাবি করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর মধ্যে এস আলম গ্রুপের ৬২ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য গ্রাহকদের ৬৮ হাজার কোটি টাকার ঋণ খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। অভিজ্ঞ মহলের মতে, বর্তমান পর্ষদের অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত এবং ঋণের টাকা আদায়ে কার্যকর পদক্ষেপের অভাবে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ বিষয়ে জানান, তথ্য গোপনের বিষয়টি প্রমাণিত হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবশ্যই বিশেষ নিরীক্ষা চালাবে। এদিকে, ব্যাংকের ভেতরে রাজনৈতিক প্রভাব এবং কর্মকর্তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে, যা এইচআর পলিসির পরিপন্থী। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের আগে পর্যন্ত ব্যাংকটি আমানত ও রেমিট্যান্সে শীর্ষস্থানে থাকলেও সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলায় আমানতকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর তদারকি ও বিশেষ নিরীক্ষা ছাড়া ইসলামী ব্যাংকের এই সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব নয়। অন্যথায় গ্রাহকদের আস্থা আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই