Image description

চলতি বছর মাথাপিছু জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) দিক থেকে প্রতিবেশী দেশ ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বশেষ ‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক’ প্রতিবেদনে এমন ইতিবাচক পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম স্ক্রল-এর এক প্রতিবেদনে আইএমএফের এই তথ্যের বরাত দিয়ে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে।

আইএমএফের প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বর্তমান বাজারমূল্যে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৯১১ মার্কিন ডলার। অন্যদিকে, একই সময়ে ভারতের মাথাপিছু জিডিপি হতে পারে ২ হাজার ৮১২ মার্কিন ডলার। মাথাপিছু জিডিপি মূলত একটি দেশের মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনকে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে নির্ণয় করা হয়, যা জনগণের গড় জীবনযাত্রার মান নির্দেশ করে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালেও মাথাপিছু জিডিপিতে বাংলাদেশ ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। তবে ২০২৫ সালে ভারত ২ হাজার ৬৭৫ ডলার নিয়ে এগিয়ে যায়, যেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ২ হাজার ৬৩৫ ডলারের সামান্য বেশি। আইএমএফের পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ সালে বাংলাদেশ পুনরায় ভারতকে টপকে যাবে।

তবে এই অর্জন সাময়িক হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সংস্থাটি। প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ভারত পুনরায় ৩ হাজার ৭৪ ডলার মাথাপিছু জিডিপি নিয়ে এগিয়ে যাবে এবং অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত দেশটি এই শ্রেষ্ঠত্ব ধরে রাখতে পারে। এ ছাড়া সামগ্রিক অর্থনীতির আয়তনের দিক থেকে ভারত এখনো বাংলাদেশের চেয়ে বহুগুণ বড়। ২০২৬ সালে ভারতের মোট জিডিপি ৪ দশমিক ১ ট্রিলিয়ন ডলার প্রাক্কলন করা হলেও বাংলাদেশের ক্ষেত্রে তা হবে ৫১০ বিলিয়ন ডলার।

প্রতিবেদনে আরও সতর্ক করা হয়েছে যে, পশ্চিম এশিয়ায় চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে। এর ফলে ২০২৬ সালে বিশ্ব অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ১ শতাংশ এবং ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ২ শতাংশ হতে পারে। আইএমএফ সাধারণত বছরে দুবার এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে বৈশ্বিক অর্থনীতির একটি মধ্যমেয়াদি চিত্র তুলে ধরে।

মানবকণ্ঠ/আরআই