দেশের আমদানি ব্যয় বাড়লেও সেই তুলনায় রপ্তানি আয় না বাড়ায় বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি প্রকট হচ্ছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে (জুলাই-মার্চ) বাণিজ্য ঘাটতি ১৯ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।
বুধবার (৬ মে) বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের (বিওপি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই উদ্বেজনক চিত্র ফুটে উঠেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত নয় মাসে মোট বাণিজ্য ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯১৭ কোটি (১৯.১৭ বিলিয়ন) ডলার। গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৫৪৫ কোটি (১৫.৪৫ বিলিয়ন) ডলার।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, আলোচ্য নয় মাসে পণ্য আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ৫১ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। বিপরীতে পণ্য রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৩২ দশমিক ৩৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত অর্থবছরের তুলনায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশ কম। মূলত রপ্তানি আয় কমে যাওয়াই বাণিজ্য ঘাটতি বৃদ্ধির প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
লেনদেন ভারসাম্যে স্বস্তি
বাণিজ্য ঘাটতি বাড়লেও বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যের (বিওপি) ঘাটতি কিছুটা কমেছে। জুলাই-মার্চ সময়ে এই সূচকে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩৯ কোটি ৭০ লাখ ডলার। অথচ গত ফেব্রুয়ারি শেষে এই ঘাটতি ১০০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছিল। প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) ও অন্যান্য খাতের ইতিবাচক প্রবাহের কারণে এই উন্নতি সম্ভব হয়েছে।
চলতি হিসাবের ভারসাম্যে ঘাটতি থাকলেও আর্থিক হিসাবে (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাকাউন্ট) বড় ধরনের উদ্বৃত্ত বজায় রেখেছে বাংলাদেশ। জুলাই-মার্চ সময়ে আর্থিক হিসাবে উদ্বৃত্ত দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই উদ্বৃত্ত ছিল মাত্র ৫৭ কোটি ডলার। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ ও এডিবির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো থেকে প্রাপ্ত বাজেট সহায়তার ঋণের ফলে এই সূচকটি শক্তিশালী হয়েছে।
অন্যদিকে, সামগ্রিক লেনদেন ভারসাম্যেও (ওভারঅল ব্যালান্স) বড় উদ্বৃত্ত দেখা গেছে। নয় মাস শেষে এই উদ্বৃত্তের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬৬ বিলিয়ন ডলার।
বিশ্লেষকদের মতে, বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উচ্চ আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। তবে আর্থিক হিসাব ও সামগ্রিক লেনদেনের উদ্বৃত্ত বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হবে।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments