Image description

টানা ছয় মাস নিম্নমুখী থাকার পর আন্তর্জাতিক বাজারে আবারও বাড়তে শুরু করেছে স্বর্ণের দাম। তবে বিশ্বজুড়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বৃদ্ধির আশঙ্কায় এই ঊর্ধ্বগতির ধারা কিছুটা ধীর।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৯৭ দশমিক ০১ ডলারে উঠেছে। তবে আগস্টে ডেলিভারির জন্য থাকা যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারসের দাম সামান্য কমে ৪ হাজার ১১৮ ডলার হয়েছে।

স্বর্ণের এই মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে মূল্যবান ধাতুর বাজার বিশ্লেষক রস নরম্যান রয়টার্সকে জানান, স্বর্ণের বাজার ঘুরে দাঁড়ালেও এটি দীর্ঘমেয়াদি কোনো পুনরুদ্ধারের সূচনা নাকি কেবল শর্ট পজিশনধারীদের মুনাফা তুলে নেওয়ার সাময়িক ফল, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের এই ওঠানামার পেছনে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা বড় ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে বাজারে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। এছাড়া মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইরানকে নতুন করে হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া এই উত্তেজনার জেরে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে, যা বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিচ্ছে। আর এই উচ্চ সুদের হার সাধারণত স্বর্ণের বাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

এদিকে স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এদিন রুপার দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৬৪ দশমিক ৪৯ ডলার, প্লাটিনাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬৭৮ দশমিক ০৮ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৪৯ দশমিক ৫৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক এই অস্থিরতার মধ্যে বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারেও স্বর্ণের দাম আকাশছোঁয়া। দেশে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ ২ লাখ ১৮ হাজার ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের ভরি ২ লাখ ৮ হাজার ৪৩৬ টাকা, ১৮ ক্যারেট ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৯২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণ ১ লাখ ৪৫ হাজার ৫০৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই