Image description

৯৮তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডসের আসরে যখন ‘সেরা পার্শ্ব অভিনেতা’ হিসেবে শন পেন-এর নাম ঘোষণা করা হলো, তখন পুরো ডলবি থিয়েটার করতালিতে মুখর। কিন্তু মঞ্চে পুরস্কার গ্রহণ করার জন্য তিনি উপস্থিত ছিলেন না।

সঞ্চালক কাইরান কুলকিন মজা করে তার হয়ে পুরস্কারটি গ্রহণ করলেও, সবার মনেই প্রশ্ন ছিল-ক্যারিয়ারের এমন এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে শন পেন কোথায়?

অবশেষে সেই রহস্যের জট খুলল। হলিউডের চোখ ধাঁধানো আলো ছেড়ে ৬৫ বছর বয়সি এই অভিনেতা তখন অবস্থান করছিলেন যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে।

অস্কার অনুষ্ঠানের কয়েক ঘণ্টা পরেই একটি ভিডিও প্রকাশ পায়, যেখানে দেখা যায় শন পেন কিয়েভের সেন্ট্রাল স্টেশনে ট্রেন থেকে নামছেন। ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় রেলওয়ে অপারেটর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওটি শেয়ার করে জানায়, ‘এখন আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে বলতে পারি- শন পেন অস্কারের বদলে ইউক্রেনকে বেছে নিয়েছেন!’

নিরাপত্তার স্বার্থে তার এই সফরটি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত গোপন রাখা হয়েছিল। পরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার সঙ্গে সাক্ষাতের একটি ছবি টেলিগ্রামে শেয়ার করে অভিনেতার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। জেলেনস্কি লেখেন, ‘শন, আপনাকে ধন্যবাদ। যুদ্ধের প্রথম দিন থেকেই আপনি ইউক্রেনের পাশে আছেন।’

পল থমাস অ্যান্ডারসনের ‘ওয়ান ব্যাটেল আফটার অ্যানাদার’ সিনেমায় একজন উন্মাদের মতো লক্ষ্যস্থির সেনা কর্নেলের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য শন পেন সেরা পার্শ্ব অভিনেতার পুরস্কার জিতেছেন। এটি তার ক্যারিয়ারের তৃতীয় অস্কার। এর আগে তিনি ‘মিস্টিক রিভার’ এবং ‘মিল্ক’ সিনেমার জন্য দুইবার সেরা অভিনেতার অস্কার জিতেছিলেন।

এই জয়ের মাধ্যমে তিনি পুরুষ অভিনেতাদের মধ্যে ড্যানিয়েল ডে-লুইস, জ্যাক নিকলসন এবং ওয়াল্টার ব্রেনানের পর চতুর্থ ব্যক্তি, যিনি তিনটি অস্কার জয়ের রেকর্ড ছুঁয়েছেন।  অস্কারের ইতিহাসে সর্বোচ্চ চারটি পুরস্কার জিতে শীর্ষে আছেন অভিনেত্রী ক্যাথরিন হেপবার্ন।

প্রসঙ্গত, শন পেনের জন্য এটিই প্রথম ইউক্রেন সফর নয়। গত দুই বছরে তিনি বেশ কয়েকবার দেশটি সফর করেছেন। এমনকি ২০২২ সালে সংহতি-স্বরূপ নিজের একটি অস্কার পুরস্কার প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে ধার দিয়েছিলেন তিনি। রাশিয়ার আক্রমণ নিয়ে একটি তথ্যচিত্রও তৈরি করেছেন পেন, যা ২০২৩ সালে প্রিমিয়ার হয়েছিল।