বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের মামলায় আলোচিত সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলের জামিন বাতিল করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাজু আহমেদের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গত ২৪ ফেব্রুয়ারি একই আদালত আপোসের শর্তে নোবেলকে অস্থায়ী জামিন দিয়েছিলেন। জামিনের শর্ত ছিল—বাদীপক্ষের সঙ্গে পাওনা টাকা ও বিয়ের বিষয়ে সমঝোতা করা। কিন্তু নোবেল জামিনে মুক্তি পাওয়ার পর সেই শর্ত ভঙ্গ করেন। তিনি ভুক্তভোগী নারীকে দেওয়া বিয়ের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেননি এবং আত্মসাৎ করা অর্থও ফেরত দেননি। এই অভিযোগের ভিত্তিতে আজ বাদীপক্ষ জামিন বাতিলের আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, আনাননিয়া শবনম রোজ নামে এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে বিয়ের প্রলোভন দেখান নোবেল। এরপর ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে তিনি ওই নারীর কাছ থেকে মোট ১৩ লাখ ১৮ হাজার ৫৪০ টাকা হাতিয়ে নেন। পরবর্তীতে সেই টাকা ফেরত না দিয়ে আত্মসাৎ করার অভিযোগে ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট মামলাটি দায়ের করা হয়।
মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তদন্ত শেষে গত ৭ জানুয়ারি পিবিআই-এর উপপরিদর্শক নুরুজ্জামান আদালতে প্রতিবেদন জমা দেন, যেখানে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়। এর প্রেক্ষিতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি নোবেলসহ তার পরিবারের ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা থেকে ডেমরা থানা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।
উল্লেখ্য, মাইনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে। ২০২৫ সালের ১৯ মে ডেমরা থানায় দায়ের করা এক মামলায় ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ওই মামলার বাদীকে কারাগারের ভেতরেই বিয়ে করার পাঁচ দিন পর তিনি জামিন পেয়েছিলেন। আবারও নতুন করে প্রতারণার মামলায় তাকে কারাগারে যেতে হলো।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments