Image description

উচ্চশিক্ষা শেষ করে বিসিএস বা করপোরেট চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিতেই নিজের ভাগ্য গড়েছেন রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা হানিফ মন্ডল (৩৫)। তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘হানিফ এগ্রোফার্ম ও নার্সারি’ এখন এলাকায় মাল্টা চাষের এক অনুকরণীয় মডেলে পরিণত হয়েছে।

উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামের আমেদুল মন্ডলের ছেলে হানিফ মন্ডল। একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (অনার্স) সম্পন্ন করার পর তিনি গতানুগতিক চাকরির খোঁজ না করে ২০১৯ সালে বাড়ির পাশে ১৬ বিঘা জমিতে গড়ে তোলেন তাঁর স্বপ্নের এগ্রোফার্ম। বর্তমানে তাঁর বাগানের পরিধি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৬ বিঘায়।

হানিফ মন্ডলের বাগানটি এখন মূলত মাল্টার জন্যই দেশজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে। তাঁর বাগানে রয়েছে বারি-১, ইয়োলো মাল্টা, ভিয়েতনামী মাল্টা, মরোক্কো মাল্টা এবং ভেরিকেট মাল্টার মতো উন্নত সব জাত। এছাড়া পরীক্ষামূলকভাবে চাষ করছেন কাশ্মিরি কেনু, জাপানি সিডলেস মাল্টা ও পাওকেনু-১ জাতের মাল্টাও। পাশাপাশি তাঁর খামারে রয়েছে চাইনিজ কমলা, দার্জিলিং কমলা, বারোমাসি কদবেল, পেয়ারা, আনার ও উন্নত জাতের আম। সাথী ফসল হিসেবে তিনি বিভিন্ন রবিশস্যও আবাদ করছেন।

সাফল্যের বিষয়ে হানিফ মন্ডল বলেন, “শুরুতে ভয় ছিল ফলন কেমন হবে তা নিয়ে। তবে উপজেলা কৃষি অফিসের নিয়মিত পরামর্শে বাগান পরিচর্যা করে আমি অভাবনীয় ফলন পেয়েছি। এখন প্রতিটি গাছ থেকে গড়ে ৮০ থেকে ১০০ কেজি মাল্টা পাচ্ছি। বাজারে প্রতি কেজি মাল্টা ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি, এ বছর বাগান থেকে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় হবে।”

অন্যান্য ফসলের তুলনায় খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় স্থানীয় অনেক শিক্ষিত বেকার যুবক এখন হানিফ মন্ডলের কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে মাল্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে দর্শনার্থী ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা তাঁর বাগান দেখতে এবং ফল কিনতে ভিড় করছেন।

চারঘাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আল মামুন হাসান বলেন, “চারঘাটের মাটি ও আবহাওয়া মাল্টা চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। হানিফের এই সাফল্য উপজেলার অন্যান্য কৃষকদের জন্য বড় অনুপ্রেরণা। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে তাঁকে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও সার দিয়ে সহযোগিতা করে আসছি। আগামীতে এ অঞ্চলে মাল্টা চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে বলে আমরা আশাবাদী।”

মানবকণ্ঠ/ডিআর