Image description

রাজবাড়ীর সুলতানপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের পারশাইল কাঠি গ্রামে মানসিক ভারসাম্যহীন এক মাকে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ঘটনাটির পেছনে রয়েছে দারিদ্র্য, চিকিৎসার অভাব ও পারিবারিক জটিলতার এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা। 

জানা যায়, ফরিদা বেগম নামের ওই নারী প্রায় এক বছর ধরে নিজ ঘরেই শিকলবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন। ছেলে আব্দুল আহাদ মোল্লা জানিয়েছেন, পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়েই তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী রুস্তম মোল্লাকে ছেড়ে ফরিদা বাবার বাড়িতে চলে যান। পরে ২০২০ সালে জীবিকার তাগিদে বিদেশে যান এবং সেখান থেকে উপার্জিত অর্থ দেশে পাঠাতেন। তবে তার মা ও স্বামীর মৃত্যুর পর সেই অর্থের বেশিরভাগই আত্মীয়দের কাছে থেকে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।

প্রবাসে থাকাকালীন সময়েই তিনি মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ২০২২ সালে দেশে ফিরে আসেন। এরপর তার আচরণ দিন দিন অস্বাভাবিক হয়ে ওঠে। 

স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি আশপাশের মানুষকে গালিগালাজ করেন এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন।

এ অবস্থায় এলাকাবাসীর চাপ ও নিরাপত্তার কারণে তাকে ঘরের ভেতরে পায়ে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখেন ছেলে। একই ঘরেই তার খাওয়া-দাওয়া ও অন্যান্য কাজ সম্পন্ন হয়।

প্রতিবেশী সেকেন্দার আলী মোল্লা বলেন, “তাকে ছেড়ে দিলে মানুষকে মারতে যান, গালিগালাজ করেন। তাই গ্রামের লোকজনের চাপে ছেলেটি তাকে বেঁধে রেখেছে।”

অন্য এক স্থানীয় রাকিব মোল্লা জানান, “বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার একটি বড় অংশ আত্মীয়দের কাছে রয়ে গেছে। সেই টাকা ফেরত পেলে চিকিৎসা করানো সম্ভব হতো।”

এদিকে, উন্নত চিকিৎসা পেলে ফরিদা বেগম সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তবে আর্থিক সংকটের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। এ অবস্থায় অসহায় এই পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।