Image description

একসময় পরিবারের হাসি-খুশির কেন্দ্র ছিলেন শাহিন। আজ তিনি জীবনের কঠিন এক মোড়ে দাঁড়িয়েছেন। প্রতিটি খাবারের গ্রাস যেন তার কাছে যন্ত্রণার আরেক নাম। ধীরে ধীরে চিকন হয়ে আসা খাদ্যনালী আর জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিনই মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন তিনি। চোখের সামনে প্রিয় মানুষটিকে এভাবে কষ্ট পেতে দেখে দিশেহারা পরিবার। আর ৬ লাখ টাকার অভাবে থমকে আছে তার বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকু।

বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কিচক ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহিন ২০২২ সাল থেকে খাদ্যনালীর জটিল সমস্যায় ভুগছেন। চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, তার খাদ্যনালী অস্বাভাবিকভাবে সংকুচিত হয়ে গেছে। যার ফলে স্বাভাবিকভাবে খাবার গ্রহণ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি তিনি আরও কয়েকটি গুরুতর রোগে আক্রান্ত, যা তার শারীরিক অবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে।

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, দ্রুত অপারেশন না করালে তার জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে। এই অপারেশন ও পরবর্তী চিকিৎসার জন্য প্রায় ৬ লক্ষ টাকার প্রয়োজন। কিন্তু দিনমজুর পরিবারের পক্ষে এত বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শাহিন ঐ গ্রামের নুর ইসলামের ছেলে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হওয়ায় তার অসুস্থতায় পুরো পরিবার এখন চরম বিপর্যয়ের মুখে। সংসারে নেমে এসেছে অভাব-অনটনের কালো ছায়া।

শাহিন বলেন, "চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে ইতোমধ্যে যে সামান্য সঞ্চয় ছিল, তাও শেষ হয়ে গেছে। ডাক্তার বলছেন অপারেশন করতে ৬ লাখ টাকা লাগবে। এ পর্যন্ত বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতায় প্রায় দেড় লাখ টাকা সংগ্রহ হয়েছে। আরও সাড়ে ৪ লাখ টাকা জোগার করতে পারলে আমি অপারেশন করাতে পারবো। আমি সবার কাছে সাহায্য চাই এবং বেঁচে থাকতে চাই।"

শাহিনের স্বজনরা বলেন, "ওর কষ্ট আমরা চোখের সামনে সহ্য করতে পারছি না। ঠিকমতো খেতেও পারে না। দিন দিন শুকিয়ে যাচ্ছে। ডাক্তার বলেছেন দ্রুত অপারেশন করাতে, কিন্তু টাকার জন্য আমরা কিছুই করতে পারছি না।"

পরিবার ও এলাকাবাসী সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন মানবিক সংগঠনের কাছে শাহিনের চিকিৎসার জন্য সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। তাদের আশা, সবার সম্মিলিত সহায়তায় হয়তো আবারও সুস্থ জীবনে ফিরতে পারবেন শাহিন।

শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এএসএম রুহুল আমিন মানবকণ্ঠকে জানান, এ ধরনের দরিদ্র রোগীদের জন্য সরকারি চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে ৬টি ক্যাটাগরি রয়েছে, ঐ ৬ ক্যাটাগরির মধ্যে পড়লে তিনি সহায়তা পাবেন।