বাংলাদেশে রাজনীতিতে ‘মুক্তিযুদ্ধ কার্ড’ তখনি অর্থহীন হবে, যখন জামায়াত ইসলামী ১৯৭১ সালে তাদের কৃত অপরাধের জন্য নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করবে—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। বৃহস্পতিবার নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘জাহেদ টকস’-এ প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, "মুক্তিযুদ্ধের সময় জামায়াত ইসলামীর সদস্যরা যে ফৌজদারি অপরাধে লিপ্ত ছিল, তা নিয়ে কোনো সন্দেহের অবকাশ নেই। তারা পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে যোগসাজশ করে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং যুদ্ধাপরাধে জড়িয়ে পড়েছিল। এই রাজনৈতিক বাস্তবতার কারণেই ‘মুক্তিযুদ্ধ কার্ড’ এখনো প্রাসঙ্গিক এবং গুরুত্বপূর্ণ।"
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে অনেক সংসদ সদস্য মুক্তিযুদ্ধ ও জামায়াত ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন। এ প্রসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওঠা সমালোচনার জবাব দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, "ফেসবুকে অনেকেই বলছেন যে, বিএনপি আবারো মুক্তিযুদ্ধের কথা তুলে ভুল করছে বা আওয়ামী লীগের পথে হাঁটছে। আমি মনে করি, যারা এমনটি বলছেন তারা মূলত বিএনপিবিরোধী। তারা চায় না বিএনপি তার ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করুক।"
গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক বিভাজন প্রসঙ্গে ডা. জাহেদ উর রহমান একটি নতুন ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "গণতন্ত্র মানেই হলো মতাদর্শগত বিভাজন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভিন্ন ভিন্ন চিন্তা থাকে এবং সেই ভিত্তিতেই তারা জনসমর্থন তৈরি করে। তবে এই বিভাজন এমন হওয়া উচিত নয় যা সমাজে ঘৃণা ছড়ায় বা অন্যের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার হরণ করে।"
তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনামলের সমালোচনা করে বলেন, "হাসিনা সরকারের সময় যে বিভাজন করা হয়েছিল, তা ছিল ধ্বংসাত্মক। তারা বিভাজনের মাধ্যমে ঘৃণা উৎপাদন করেছে, মানুষের রাজনৈতিক ও মানবাধিকার হরণ করেছে এবং রাষ্ট্রকে এক ভয়াবহ সংঘাতের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে আমরা যে সুস্থ রাজনৈতিক বিতর্কের কথা বলছি, তা গণতন্ত্রকে সুসংহত করার জন্যই প্রয়োজন।"
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments