প্রখর রোদে পুড়ছে জনপদ। দুপুর গড়াতেই গরমে হাঁসফাঁস অবস্থা। এমন সময়ে বগুড়ার শিবগঞ্জ ও নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার বিভিন্ন বাজারে দেখা মিলছে সবুজ তালের স্তুপ। ধারালো ছুরির একেকটি কোপে তালের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসছে স্বচ্ছ সাদা শাঁস। মানুষেরা কিনে খাচ্ছেন কেউ তৃষ্ণা মেটাতে, কেউ বা পছন্দের খাবার হিসেবে। খুঁজে নিচ্ছেন খানিকটা স্বস্তি।
শুক্রবার দুপুরে মোকামতলা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গোডাউন রোড এবং মহাসড়কের পাশে অস্থায়ী দোকান বসিয়ে তালশাঁস বিক্রি করছেন কয়েকজন ব্যবসায়ী। পথচারী ও স্থানীয়রা ভিড় করছেন এসব দোকানে। কেউ দাঁড়িয়ে খাচ্ছেন, কেউ আবার সঙ্গে করে বাসায় নিয়ে যাচ্ছেন পরিবারের সদস্যদের জন্য।
ব্যবসায়ীরা জানান, বিভিন্ন এলাকা থেকে তাল সংগ্রহ করে এনে বিক্রি করছেন তারা। গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালশাঁসের চাহিদাও বেড়েছে। একটি তাল থেকে সাধারণত দুই থেকে তিনটি শাঁস পাওয়া যায়। প্রতি পিস শাঁস পাঁচ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
মোকামতলা গোডাউন রোডের পাশে তালশাঁস বিক্রেতা আলাউদ্দিন বলেন, "গরমের কারণে মানুষ ঠান্ডা ধরনের খাবার বেশি খুঁজছে। তালশাঁস খেতে সুস্বাদু। দামও তুলনামূলক কম। বেচা বিক্রি ভালোয় হয়। বিশেষ করে দুপুরের পর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশি বিক্রি হয়।"
তালশাঁস কিনতে আসা তামান্না লিজা বলেন, "ছোটবেলা থেকেই তালশাঁস খেতে ভালো লাগে। এখন বাজারে উঠেছে দেখে প্রায়ই কিনে নিয়ে যাই। খেতেও ভালো লাগে এবং গরমের দিনে বেশ আরাম দেয়।"
মোকামতলা উত্তরাঞ্চলের একটি ব্যস্ততম সড়কসংযোগ কেন্দ্র। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই পথে যাতায়াত করেন। সেই সুযোগে মৌসুমি ফল বিক্রেতারাও ব্যবসা জমিয়ে তুলেছেন। গরম যত বাড়ছে, তালশাঁসের প্রতি মানুষের আগ্রহও তত বাড়ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা।




Comments