Image description

একসময় গ্রাম কিংবা শহর—প্রতিটি পরিবারের ঘরেই দেখা মিলত মাটির তৈরি ছোট্ট একটি ব্যাংকের। শিশুদের সঞ্চয়ের অভ্যাস গড়ে তুলতে অভিভাবকদের প্রথম পছন্দ ছিল এটি। প্রতিদিনের হাতখরচ থেকে বাঁচানো মুদ্রা কিংবা ছোট অঙ্কের নোট জমতে জমতে একসময় তা বড় সঞ্চয়ে পরিণত হতো। তবে প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান সময়ে সেই চিরচেনা মাটির ব্যাংক এখন বিলুপ্তির পথে।

গাজীপুর মহানগরীর পূবাইল বাজার ঘুরে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকটি দোকানে এখনও বিভিন্ন আকারের মাটির ব্যাংক বিক্রি হচ্ছে। তবে আগের মতো সেই রমরমা অবস্থা নেই। চাহিদা কমে যাওয়ায় বিক্রেতারাও এখন আর বেশি পরিমাণে মাটির ব্যাংক দোকানে রাখছেন না।

পূবাইল বাজারের মৃৎশিল্প ব্যবসায়ী অনন্য সাহা বলেন, “আমি দীর্ঘদিন ধরে এখানে মাটির জিনিসপত্র বিক্রি করছি। আগে যে পরিমাণ মাটির ব্যাংক বিক্রি হতো, এখন তার সিকিভাগও হয় না। এখনকার শিশুরা ডিজিটাল গেম আর মোবাইল ব্যাংকিংয়ের যুগে বড় হচ্ছে। তাই এই ঐতিহ্যের প্রতি তাদের আগ্রহ নেই। চাহিদা না থাকায় আমরাও এখন মাটির ব্যাংক কম রাখি।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, মাটির ব্যাংক কেবল টাকা জমানোর একটি পাত্র নয়; এটি শিশুদের মধ্যে ধৈর্য, মিতব্যয়িতা ও সঞ্চয়ের মানসিকতা গড়ে তোলার একটি চমৎকার মাধ্যম ছিল। ডিজিটাল লেনদেন ও আধুনিক জীবনযাত্রার ভিড়ে এই দেশীয় কুটিরশিল্প আজ কোণঠাসা।

নতুন প্রজন্মের কাছে এই ঐতিহ্যকে পরিচিত করে তুলতে এবং মৃৎশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এখনই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় অদূর ভবিষ্যতে মাটির ব্যাংক কেবল স্মৃতির পাতায় কিংবা জাদুঘরেই সীমাবদ্ধ হয়ে যাবে।

মানবকণ্ঠ/ডিআর