Image description

নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র হিসেবে শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়লেন জোহরান মামদানি। যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম এই শহরের প্রথম মুসলিম এবং কয়েক প্রজন্মের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলেন তিনি। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে ম্যানহাটনের একটি ঐতিহাসিক ও পরিত্যক্ত সাবওয়ে স্টেশনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পবিত্র কোরআন শরিফে হাত রেখে তিনি শপথ গ্রহণ করেন।

শপথ গ্রহণের পর এক প্রতিক্রিয়ায় ডেমোক্র্যাট এই নেতা বলেন, ‘এটি আমার জীবনের শ্রেষ্ঠ সম্মান এবং পরম সৌভাগ্যের বিষয়।’

নিউ ইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস তাকে প্রথম দফার এই শপথ বাক্য পাঠ করান। তবে আজ দুপুর ১টায় (১৮:০০ জিএমটি) সিটি হলে আরও একটি আড়ম্বরপূর্ণ প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে তাকে পুনরায় শপথ পাঠ করাবেন মার্কিন সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, যাকে মামদানি তার রাজনৈতিক আদর্শ মনে করেন। এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের পর ব্রডওয়ের 'ক্যানিয়ন অব হিরোস' এলাকায় একটি বিশাল জনসমাবেশ ও উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

বৈচিত্র্যময় পরিচয় ও প্রেক্ষাপট
৩৪ বছর বয়সী জোহরান মামদানি কেবল নিউ ইয়র্কের প্রথম মুসলিম মেয়রই নন, তিনি এই শহরের প্রথম দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত এবং আফ্রিকায় জন্মগ্রহণকারী মেয়র। উগান্ডার কাম্পালায় জন্মগ্রহণকারী জোহরান বিখ্যাত চলচ্চিত্র নির্মাতা মীরা নায়ার এবং প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ ও লেখক মাহমুদ মামদানির পুত্র। মাত্র ৭ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে তিনি নিউ ইয়র্কে চলে আসেন। নাইন-ইলেভেন পরবর্তী কঠিন সময়ে নিউ ইয়র্কে বেড়ে ওঠা জোহরান ২০১৮ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব পান। ২০২০ সালে কুইন্স থেকে স্টেট অ্যাসেম্বলি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে মূলধারার রাজনীতিতে তার শক্তিশালী উত্থান ঘটে।

জীবনযাত্রার খরচ কমানোর প্রতিশ্রুতি
'সাশ্রয়ী জীবনযাপন' স্লোগানকে সামনে রেখে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া এই গণতান্ত্রিক সমাজতান্ত্রিক নেতা বড় ধরনের পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছেন। তার নির্বাচনি ইশতেহারে রয়েছে—বিনামূল্যে শিশু যত্ন, বিনামূল্যে বাস চলাচল, প্রায় ১০ লাখ পরিবারের জন্য বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি স্থগিত রাখা এবং সিটি পরিচালিত সুলভ মূল্যের মুদি দোকান চালুর মতো যুগান্তকারী সব পদক্ষেপ।

ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্ব ও অম্ল-মধুর সম্পর্ক
নবনির্বাচিত রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মামদানির সম্পর্ক নিয়ে রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা রয়েছে। নির্বাচনি প্রচারণার সময় ট্রাম্প মামদানিকে "১০০ শতাংশ কমিউনিস্ট পাগল" বলে অভিহিত করেছিলেন এবং তিনি জয়ী হলে সিটির কেন্দ্রীয় তহবিল আটকে দেওয়া ও ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর হুমকিও দিয়েছিলেন। এমনকি ট্রাম্প তাকে দেশান্তরের ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন।

তবে চমকপ্রদ বিষয় হলো, গত নভেম্বরে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে মামদানির একটি অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ট্রাম্প বলেছিলেন, "আমি চাই সে খুব ভালো কাজ করুক এবং আমি তাকে সাহায্য করব।" যদিও সেই বৈঠকের পরেও মামদানি তার অবস্থানে অনড় থেকে এনবিসি নিউজকে বলেছেন, তিনি এখনো মনে করেন ট্রাম্প একজন ‘ফ্যাসিস্ট’।

চ্যালেঞ্জিং পথচলা
রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষের পাশাপাশি জোহরান মামদানিকে নিউ ইয়র্কের দৈনন্দিন ও নাগরিক সমস্যাগুলোও সামাল দিতে হবে। আবর্জনা পরিষ্কার, তুষার অপসারণ এবং সাবওয়ে বিলম্বের মতো চিরচেনা সমস্যাগুলোর সমাধানের চাপ এখন থেকেই তার ওপর রয়েছে। মেয়র নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রাইমারি এবং মূল নির্বাচনে সাবেক তুখোড় গভর্নর অ্যান্ড্রু কুয়োমোকে পরাজিত করে আসা এই তরুণ মেয়র এখন বিশ্ব রাজনীতির অন্যতম পর্যবেক্ষণযোগ্য ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছেন।