যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যার ইতিহাসে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছে প্রভাবশালী গবেষণা সংস্থা রেজোলিউশন ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সাল থেকে দেশটিতে জন্মহারের চেয়ে মৃত্যুহার বেশি হবে। ফলে চলতি বছর থেকে যুক্তরাজ্যের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পুরোপুরি আন্তর্জাতিক অভিবাসনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়বে।
সোমবার প্রকাশিত বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রতিবেদনে রেজোলিউশন ফাউন্ডেশন জানায়, এটি একটি স্থায়ী পরিবর্তন, যা অন্তত বিশ শতকের শুরু থেকে চলে আসা জনমিতিক ধারার অবসান ঘটাবে। যদিও কভিড-১৯ মহামারির সময় ২০২০ সালে এবং আবার ২০২৩ সালে যুক্তরাজ্যে জন্মহারের চেয়ে মৃত্যু বেশি হয়েছিল, তবু এর পরের দুই বছরে দেশটির জনসংখ্যা সামান্য বেড়েছিল। ২০২৬ সালের পর সেই সুযোগ আর থাকবে না বলে মনে করছে সংস্থাটি।
রেজোলিউশন ফাউন্ডেশনের গবেষণা প্রতিবেদনটি ব্লুমবার্গে এমন এক সময়ে প্রকাশিত হলো, যখন দেশটির প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার অভিবাসন প্রশ্নে রাজনৈতিক চাপের মুখে রয়েছেন। বিরোধী রাজনীতিক নাইজেল ফারাজের অভিবাসনবিরোধী বক্তব্য জনমত জরিপে প্রভাব ফেলছে। সরকার অভিবাসন কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও এতে অর্থনৈতিক স্থবিরতা কাটানোর লক্ষ্যে ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
রেজোলিউশন ফাউন্ডেশনের গবেষণা পরিচালক গ্রেগ থোয়াইটস বলেন, জনসংখ্যা হ্রাসের বাস্তবতা অভিবাসন নিয়ে বিতর্কের দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারে। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী রুথ কার্টিস জানান, বয়স্ক জনসংখ্যা বাড়তে থাকায় ভবিষ্যতে জনসেবা ও কর ব্যবস্থা টিকিয়ে রাখতে অভিবাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। এদিকে প্রতিবেদনে ২০২৬ সালে বেকারত্ব বাড়ারও আশঙ্কা করা হয়েছে।




Comments