বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাওয়ার প্রক্রিয়া আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে উঠল। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে ‘ভিসা বন্ড’ বা জামানত প্রদানকারী দেশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। এর ফলে বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত জামানত জমা দিতে হতে পারে এবং তারা কেবল নির্দিষ্ট তিনটি বিমানবন্দর ব্যবহার করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর গত ৬ জানুয়ারি এই তালিকা হালনাগাদ করেছে, যা বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
ভিসা বন্ডের বিস্তারিত নিয়মাবলী:
১. জামানতের পরিমাণ: কনস্যুলার অফিসার চাইলে আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা ১৫ হাজার মার্কিন ডলার জামানত বা বন্ড দাবি করতে পারেন।
২. জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া: এই অর্থ যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘Pay.gov’-এর মাধ্যমে জমা দিতে হবে। তবে কনস্যুলার অফিসার নির্দেশ দেওয়ার আগে কোনো অর্থ জমা না দেওয়ার জন্য সতর্ক করা হয়েছে।
৩. কেন এই বন্ড: মূলত পর্যটক বা শিক্ষার্থীরা যেন ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে সেখানে থেকে না যান, তা নিশ্চিত করতেই এই পাইলট প্রোগ্রাম চালু করা হয়েছে।
এটি একটি ফেরতযোগ্য জামানত। নিচের পরিস্থিতিতে এই টাকা ফেরত পাওয়া যাবে:
যদি ভ্রমণকারী অনুমোদিত সময়ের মধ্যে বা তার আগে যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করেন।
যদি ভিসা পাওয়ার পর তিনি ভ্রমণ না করেন।
যদি মার্কিন বিমানবন্দরে তাকে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হয়।
তবে যদি কেউ নির্ধারিত সময়ের বেশি অবস্থান করেন কিংবা সেখানে গিয়ে এসাইলাম বা রাজনৈতিক আশ্রয়ের মতো স্ট্যাটাস পরিবর্তনের আবেদন করেন, তবে জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে।
ভিসা বন্ডের তালিকায় থাকা বাংলাদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য তিনটি বিমানবন্দর নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এই নির্ধারিত পথ ছাড়া অন্য কোনো পথে প্রবেশ বা বের হলে বন্ডের শর্ত ভঙ্গ হয়েছে বলে গণ্য হবে।
বিমানবন্দরগুলো হলো:
১. জন এফ কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (JFK), নিউ ইয়র্ক।
২. বোস্টন লোগান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (BOS), বোস্টন।
৩. ওয়াশিংটন ডুলস ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট (IAD), ওয়াশিংটন ডিসি।
বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান, আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া ও উগান্ডাসহ মোট ৩৮টি দেশ এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই নতুন নিয়মের ফলে বাংলাদেশিদের জন্য মার্কিন ভিসা পাওয়া যেমন ব্যয়বহুল হবে, তেমনি ভ্রমণের ক্ষেত্রেও তৈরি হবে নানা আইনি ও কৌশলগত জটিলতা।
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments