মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সবুজ সংকেত পেলেই ইরানের বিরুদ্ধে সপ্তাহব্যাপী এক টানা সামরিক অভিযান চালানোর সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মার্কিন সেনাবাহিনী। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নজিরবিহীন ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত শুরু হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মার্কিন সেনাবাহিনীর এই যুদ্ধপ্রস্তুতি বর্তমানে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। আগামী মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ওমানের মধ্যস্থতায় জেনেভায় ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের আলোচনায় বসার কথা রয়েছে।
তবে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও গত শনিবার মন্তব্য করেছেন যে, ট্রাম্প চুক্তি চাইলেও তেহরানের সঙ্গে তা করা ‘খুবই কঠিন’।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে বিশাল সামরিক শক্তি জড়ো করছে পেন্টাগন। সেখানে ইতিমধ্যে অতিরিক্ত বিমানবাহী রণতরী, হাজার হাজার সৈন্য, অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান এবং গাইডেড-ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংসকারী জাহাজ পাঠানো হয়েছে।
গত শুক্রবার উত্তর ক্যারোলিনার ফোর্ট ব্র্যাগে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প প্রকাশ্যে ইরানে সরকার পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, ‘এটিই (সরকার পরিবর্তন) সম্ভবত সবচেয়ে ভালো সমাধান হতে পারে।’
সামরিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের অভিযান গত জুনের ‘মিডনাইট হ্যামার’ অভিযানের চেয়ে অনেক বেশি বিধ্বংসী ও জটিল হবে। জুনের অভিযানে কেবল পারমাণবিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হলেও, এবারের সম্ভাব্য পরিকল্পনায় ইরানের রাষ্ট্রীয় ও গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তবে এই অভিযানে মার্কিন বাহিনীর জন্যও বড় ঝুঁকি রয়েছে। ইরানের বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার যেকোনো সময় পাল্টা আঘাত হানতে পারে, যা পুরো অঞ্চলকে একটি দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের চক্রে ঠেলে দিতে পারে বলে কর্মকর্তারা স্বীকার করেছেন।
মার্কিন এই হুমকির মুখে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। তারা জানিয়েছে, ইরানি ভূখণ্ডে কোনো হামলা হলে মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত জর্ডান, কুয়েত, সৌদি আরব ও কাতারের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের সঙ্গে যেকোনো চুক্তিতে অবশ্যই ইসরায়েলের নিরাপত্তা স্বার্থ নিশ্চিত করতে হবে। তবে ইরানের নির্বাসিত বিরোধী নেতা রেজা পাহলভি এই সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এর ফলে বর্তমান শাসনের পতন ত্বরান্বিত হতে পারে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments