নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি ক্ষমতাচ্যুত হন গত বছরের সেপ্টেম্বরে। এর কয়েক মাসের মাথায় তিনি ফের সাধারণ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। আশা করছেন, আগামী ৫ মার্চের নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও ক্ষমতা ফিরে পাবেন।
সোমবার থেকে দেশটিতে নির্বাচনী প্রচার শুরু হয়েছে। কেপি শর্মা অলি কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল-ইউনিফায়েড মার্ক্সিস্ট লেনিনিস্ট (সিপিএন-ইউএমএল) এর নেতা। নির্বাচনে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বিদের মধ্যে আছেন কাঠমান্ডুর মেয়র বালেন্দ্র শাহ। আন্দোলনের পর তিনি তরুণদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। অন্তর্বর্তী সরকারে তাঁর নামও সুপারিশ করেছিলেন আন্দোলনকারীরা।
আসন্ন নির্বাচন ঘিরে গত সপ্তাহে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোট চান অলি। তাঁর দৃষ্টিতে এবারের নির্বাচন হতে যাচ্ছে, ‘যারা দেশ পোড়ায় এবং দেশ গড়ে তাদের মধ্যকার প্রতিযোগিতা’। সোমবার নির্বাচনী প্রচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে পূর্বাঞ্চলের ঝাপা-৫ আসন। অলি ও বালেন্দ্র দুজনই পৃথকভাবে এই আসনে প্রচার শুরু করেছেন।
আসনটির ১ লাখ ৬৩ হাজার ভোটারের একজন ৬৬ বছর বয়সী হিমা কারকি এএফপিকে বলেন, ‘কেপি অলি এই জাতির জন্য অপরিহার্য। তিনি দেশের ত্রাণকর্তা এবং এখান থেকে তাঁর জয় সুনিশ্চিত।’ শহর ও গ্রাম মিলিয়ে গড়ে ওঠা আসনটিতে অলির ভোটব্যাংক বেশ শক্তিশালী।
তবে এই কমিউনিস্ট নেতার ক্ষমতায় ফেরা নিয়ে সংশয় আছে ভোটারদের মাঝে। ঝাপার ৩৩ বছর বয়সী বাসিন্দা ছবি খাতিওয়াদা এক সময় অলির সমর্থক ছিলেন। বর্তমানে তিনি বালেন্দ্রকে সমর্থন দিচ্ছেন। ছবি বলেন, ‘কেবল তরুণরাই পরিবর্তন আনতে পারে। এখন আমাদের রাজনৈতিকভাবে সচেতন হওয়া এবং নতুন নেপালের জন্য কাজ করার উপযুক্ত সময়।’
নির্বাচনে প্রায় ১ কোটি ৯০ লাখ ভোটারের মধ্যে ৮ লাখই নতুন। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ২৭৫টি আসনের বিপরীতে ১৬৫ জন সরাসরি ভোটারদের ভোটে নির্বাচিত হন। বাকি ১১০টি আসন নির্ধারণ হয় সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) মাধ্যমে। ১৬৫ আসনের বিপরীতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ৩ হাজার ৪০০ প্রার্থী। তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশের বয়স ৪০-এর নিচে।
নেপালে গত সেপ্টেম্বরের জেনজি আন্দোলনে নিহত হন অন্তত ৭৭ জন। এরপর দায়িত্ব গ্রহণ করে সুশিলা কারকির অন্তর্বর্তী সরকার। অল্প কয়েকদিনের মাথায় সাধারণ নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়।
আন্দোলনের মুখে পদত্যাগের সময় কেপি শর্মা অলি বলেছিলেন, তিনি আশা করেন তাঁর সরে দাঁড়ানোটা সমস্যার সমাধান করবে। গত জানুয়ারিতে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের গঠন করা একটি কমিশনের কাছে জবানবন্দি দেন। বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। বিক্ষোভে প্রাণহানির জন্য অনুপ্রবেশকারীদের দায়ী করেছেন অলি।




Comments