বয়কট এড়াতে ফিলিস্তিনি লেবেলে বিক্রি হচ্ছে ইসরায়েলি খেজুর, চিনবেন যেভাবে
পবিত্র রমজান মাসে বিশ্বজুড়ে মুসলমানদের ইফতারের অন্যতম প্রধান অনুষঙ্গ হলো খেজুর। তবে ইফতারের এই আবশ্যকীয় উপাদানটি নিয়ে ইসরায়েল প্রতারণার আশ্রয় নিচ্ছে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী ইসরায়েলি পণ্য বয়কটের ডাক জোরালো হওয়ার পর অবৈধ বসতিতে উৎপাদিত নিজেদের খেজুরগুলো বিভ্রান্তিকর লেবেলে বাজারে ছাড়ছে ইসরায়েলি কোম্পানিগুলো।
ইউরোপ ও আরব বিশ্বে বয়কট কর্মসূচি থেকে বাঁচতে ইসরায়েল এই কৌশল নিয়েছে। আল ঘাদ টিভির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে দেখা গেছে, আগে যেসব খেজুরের বাক্সে ‘মেড ইন ইসরায়েল’ লেখা থাকত, এখন সেগুলোতে ‘মেড ইন ওয়েস্ট ব্যাংক’ বা ফিলিস্তিনে উৎপাদিত পণ্য হিসেবে ভুয়া লেবেল ব্যবহার করা হচ্ছে।
ফিলিস্তিনি বিক্রেতা মোহাম্মদ কায়েদ সালিমের মতে, জর্ডান ভ্যালি ও মৃত সাগর অববাহিকার জলবায়ু একই রকম হওয়ায় ফিলিস্তিন ও ইসরায়েলি খেজুরের বাহ্যিক রূপ দেখতে প্রায় হুবহু একই রকম হয়। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে অবৈধ বসতির খেজুর আর ফিলিস্তিনি খেজুর আলাদা করা বেশ কঠিন।
আসল ফিলিস্তিনি খেজুর চেনার উপায়: তুর্কি সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সিকে ফিলিস্তিনি রপ্তানি প্রতিনিধি মোহাম্মদ সাওয়াফতেহ জানান, শুধু বাহ্যিক রূপ দেখে বিভ্রান্ত না হয়ে আমদানিকারকদের সরকারি নথিপত্রের ওপর নির্ভর করতে হবে। আসল ফিলিস্তিনি খেজুরের চালানে সিলমোহরসহ কৃষি মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সনদ, কাস্টমসের ‘ইইউআর.১’ ডকুমেন্ট এবং চেম্বার অব কমার্সের ইস্যুকৃত উৎপত্তি সনদ যুক্ত থাকে।
ফিলিস্তিনি পাম ও খেজুর কাউন্সিলের প্রধান ইব্রাহিম দাঈক জানান, বিদেশে রপ্তানি করা ফিলিস্তিনি পণ্যের গায়ে সাধারণত ‘ফিলিস্তিনের পণ্য’ লেখা থাকে এবং এর বারকোড ‘৬২৫’ (625) দিয়ে শুরু হয়। অন্যদিকে, ইসরায়েলি পণ্যের বারকোড সাধারণত ‘৭২৯’ (729) বা কখনো কখনো ‘৮৭১’ (871) দিয়ে শুরু হয়।
তবে ক্রেতাদের সতর্ক করে তিনি আরও বলেন, অনেক সময় ইসরায়েলি কোম্পানিগুলো নতুন পরিবেশকের নামে পণ্য পুনরায় প্যাকেটজাত করে আসল পরিচয় লুকিয়ে ফেলে। বাজারে জর্ডান রিভার, মেহাদ্রিন, হাদিক্লাইম, কিং সলোমন, কারমেল আগরেক্সকো এবং স্টার ডেটসের মতো ইসরায়েলি ব্র্যান্ডগুলো নিরপেক্ষ মোড়কে বিক্রি হতে পারে, তাই খেজুর কেনার সময় এই নামগুলো এড়িয়ে চলা উচিত।
সূত্র: প্যালেস্টাইন ক্রনিকল
মানবকণ্ঠ/আরআই




Comments