Image description

মায়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে ড্রোন ও আধুনিক অস্ত্রের প্রশিক্ষণ দেওয়ার অভিযোগে সাতজন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (এনআইএ)। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন মার্কিন এবং বাকি ছয়জন ইউক্রেনের নাগরিক। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানানো হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কঠোর সন্ত্রাসবাদ দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) অভিযুক্তদের দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে হাজির করা হয়। এ সময় এনআইএ তাদের ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ১১ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে আগামী ২৭ মার্চ তাদের পুনরায় আদালতে তোলা হবে।

এনআইএ জানিয়েছে, মার্কিন নাগরিক ম্যাথিউ ভ্যানডাইককে কলকাতা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইউক্রেনের তিন নাগরিক হুরবা পেত্রো, স্লিভিয়াক তারাস ও ইভান সুকমানভস্কিইকে লখনউ থেকে এবং বাকি তিনজনকে (স্টেফানকিভ মারিয়ান, হনচারুক ম্যাকসিম ও কামিনস্কি ভিক্টর) দিল্লি থেকে আটক করা হয়েছে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অন্তত ১৪ জন ইউক্রেনীয় নাগরিক পর্যটক ভিসায় ভারতে এসে গুয়াহাটি হয়ে মিজোরামে যান। সেখান থেকে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই তারা সীমান্ত পেরিয়ে মায়ানমারে প্রবেশ করেন। এনআইএ-র দাবি, এই দলটি মায়ানমারের জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে যুদ্ধে ড্রোনের ব্যবহার ও আধুনিক সমরকৌশল বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিচ্ছিল। গোয়েন্দাদের ধারণা, এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় থাকা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনগুলোর গোপন যোগাযোগ রয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউরোপ থেকে ড্রোন সরঞ্জামের একটি বিশাল চালান ভারত হয়ে মায়ানমারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল। আদালতকে এনআইএ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত বিদেশি নাগরিকদের কাছ থেকে জব্দ করা মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক বিশ্লেষণ চলছে। এর মাধ্যমে তাদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এবং অর্থায়নের উৎস খুঁজে বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

ভারতের মাটিতে বসে অন্য দেশের বিদ্রোহীদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার এই ঘটনা দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখছে দিল্লি। এই ঘটনার পেছনে অন্য কোনো আন্তর্জাতিক মহলের ইন্ধন রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মানবকণ্ঠ/আরআই