মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাব
এশিয়ায় রুশ তেলের রেকর্ড আমদানি, এক মাসেই ৩০ লাখ টন ছাড়ানোর সম্ভাবনা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় জ্বালানি সংকটে পড়া এশীয় দেশগুলো বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়ার দিকে ঝুঁকছে। এর ফলে চলতি মাসে রাশিয়া থেকে এশিয়ার ফুয়েল অয়েল (জ্বালানি তেল) আমদানি সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড স্পর্শ করতে যাচ্ছে। শিপিং ডেটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’ (Kpler) এবং ‘এলএসইজি’ (LSEG)-এর তথ্য অনুযায়ী, এ মাসে আমদানির পরিমাণ ৩০ লাখ টন ছাড়িয়ে যেতে পারে, যা দৈনিক প্রায় ৬ লাখ ১৪ হাজার ৫০০ ব্যারেলের সমান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আমদানিকৃত মোট তেলের অর্ধেকেরও বেশি (১৭ থেকে ১৯ লাখ টন) যাচ্ছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। আর চীন আমদানি করছে প্রায় ১২ থেকে ১৫ লাখ টন। মূলত যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য থেকে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এশীয় আমদানিকারকরা রাশিয়ার জ্বালানির ওপর বড় আকারে নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে।
জ্বালানি বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে মাঝারি ও ভারী সালফারযুক্ত তেল পরিবহন কমে যাওয়ায় উচ্চ সালফারযুক্ত ফুয়েল অয়েল (HSFO) সরবরাহে তীব্র চাপ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ভরটেক্সা’র জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হ্যাভিয়ার টাং জানান, ইরানের অবরোধের ফলে তেলের বিশ্ববাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ও তেলের বিশ্ববাজারের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে যুক্তরাষ্ট্র সরকার বর্তমানে তাদের জরুরি মজুদে থাকা রুশ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞায় কিছুটা ছাড় দিয়েছে। এশিয়ার আমদানিকারক দেশগুলো দ্রুত এই সুযোগ কাজে লাগিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, যদি মধ্যপ্রাচ্য থেকে রপ্তানি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকে, তবে রাশিয়ার একার পক্ষে এশিয়ার বিশাল চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে না।
‘এনার্জি অ্যাসপেক্টস’-এর বিশ্লেষক রয়স্টোন হুয়ান সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালি এখনো অবরুদ্ধ থাকায় অপরিশোধিত তেলের প্রাপ্যতা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহ বা মাসজুড়ে তেলের বাজারে অস্থিতিশীলতা ও দামের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
মানবকণ্ঠ/ডিআর




Comments